লিটন হোসেন, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি
নদীর দিকে তাকাইলেই বুকটা কেঁপে ওঠে। এই ঘরটা বানাইতে কত কষ্ট করছি, এখন মনে হয় সবকিছু চোখের সামনে ভাসাইয়া নিয়ে যাবে নদী। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গরম বাজার এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম। তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সন্তানদের মুখেও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে থাকা এই পরিবারের মতো একই দুর্ভোগে দিন কাটছে এলাকার শতাধিক পরিবারের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গরম বাজার সংলগ্ন নদীতীরে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে পাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়েছে। কয়েকটি বসতঘর এখন ভাগনের একেবারে কিনারায় অবস্থান করছে। কোথাও কোথাও ঘর থেকে নদীর দূরত্ব মাত্র কয়েক ফুট। নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ার এলেই নতুন করে মাটি ধসে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিমের কণ্ঠে ছিল গভীর উদ্বেগ, পুরাপুরি বর্ষা এখনো শুরুই হয় নাই। এর মধ্যেই নদী যেভাবে পাড় ভাঙতেছে, তাতে বর্ষা আইলে কী হইবো, সেই চিন্তায় ঘুম আসে না। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারাইয়া পথে বসবে।
চরবংশীর নদীতীরে দাঁড়িয়ে থাকা ভাঙনের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো যেন নীরবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। নদী এখানে শুধু মাটি ভাঙছে না; ভাঙছে মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ আর বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকু। আর তাই নদীর গর্জনের সঙ্গে মিশে আছে অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস, পুরাপুরি বর্ষা না আসতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষা এলে আমাদের কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা চরবংশীর নদীভাঙন কবলিত মানুষের কাছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল বলেন, রায়পুর উপজেলার প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫ জুন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহাঃ এনামূল হক ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬