আসাদুজ্জামান বাবুল
বৃষ্টি আর শ্রমিকের অভাবে সময়মত ধান কাটতে পারছেন না কোটালীপাড়ার ধান চাষিরা। বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান ক্ষেতে পড়ে আছে, আবার কোন কোন জায়গায় কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ধান চাষিরা।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক আমাদের এ প্রতিনিধিকে জানান, পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন জেলা থেকে যারা আসছেন তাদের মজুরিও বেড়ে গেছে। বৃষ্টির কারনে অনেক শ্রমিক কাজ শুরু করে মাঝপথেই চলে যাচ্ছেন। এছাড়া ধান কাটার কৃষিযন্ত্র চালাতে দক্ষ অপারেটরের অভাবেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তারাশী গ্রামের কৃষক হিটু তালুকদার বলেন, শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান জমিতে পড়ে আছে। অল্প সংখ্যক শ্রমিক যাও মিলছে তাদের মজুরি অনেক বেশি, তাই খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।
কান্দি গ্রামের কৃষক সুরেস মধু বলেন, ধান পেকে গেছে, কিন্তু জমিতে পানি থাকায় মেশিন নামানো যাচ্ছে না। খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। অন্যদিকে ধান কাটার পর মাড়াই নিয়েও নতুন সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। ডিজেলের ঘাটতির কারণে পর্যাপ্ত মাড়াই মেশিন চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক জায়গায় কাটা ধান সময়মতো মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে না, যা ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৭৯৪ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমিতে। গত ২০ এপ্রিল থেকে ০৫ মে পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৮৩৪ হেক্টর জমির ধান কর্তন। যা মোট আবাদকৃত জমির প্রায় ৭৬ শতাংশ।
কৃষি অফিসার দোলন চন্দ্র রায় বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে। উপজেলায় ১৮টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৬টি রিপার মেশিন রয়েছে, তবে সব জায়গায় তা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কৃষকদের সহযোগিতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ মে’র মধ্যে ধান কর্তন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬