রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেয়ামতপুর কদমতলা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়া ও তার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই তাদের স্বপ্নের ঘরটি আগুনে গ্রাস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
জানা যায়, রাজু মিয়া পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি এলাকায় একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনার মাধ্যমে পরিবারের ভরণপোষণ করে আসছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ মোট পাঁচজন সদস্য রয়েছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কষ্ট করে গড়ে তুলেছিলেন তার বসতঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কিন্তু গত রবিবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডে সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, দুটি উন্নতমানের ক্যামেরা, আসবাবপত্র, পোশাক, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। এতে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে আগুনে বসতঘরের সম্পূর্ণ কাঠামো ও ভেতরের সব মালামাল ধ্বংস হয়ে যায়। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে স্থানীয়দের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
ঘটনার পরপরই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজুর নবী ডন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তাদের খোঁজখবর নিয়ে তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, একটি পরিবারের এমন সর্বনাশ সত্যিই হৃদয়বিদারক। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াবো। তাদের জন্য জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমী ও হিফজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি পরিবার মুহূর্তেই তাদের সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা জরুরি। তাই ভাইটিকে সবাই সাহায্য করুন। আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকেও তাদের সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করছি।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আগুন লাগার পরপরই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কেউ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। তারা আরও জানান, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুনের ভয়াবহতায় ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত সরকারি সহায়তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মানবিক বিপর্যয়ের এ ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি পরিবারের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬