
সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও তা মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদের কোনো সংকট নেই। বরং নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ ব্যয় হয়নি। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মে মাসের মধ্যেই হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, এমনকি শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসার আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে, যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া দেশে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই এবং সেগুলো দ্রুত সব কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মিরপুর নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পোলিও ভ্যাকসিন সংকটের খবরটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে রোগী ভ্যাকসিন পেলেও তা সঙ্গে নিয়ে যায়নি, পরে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি নেই এবং এ সংক্রান্ত সব হিসাব তার কাছে রয়েছে।
গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছর শিশুদের নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে তা শুরু করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম ৩০টি উপজেলায় যেখানে টিকাদান শুরু হয়েছে, সেখানে বর্তমানে কোনো হাম রোগী নেই বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এসব তাঁবু স্থাপন শুরু হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সিটি করপোরেশনকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬