
রংপুর প্রতিনিধি
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট-এর আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেওডোবা এলাকায় অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম—উন্নয়নপুর। একসময় অবহেলা আর পশ্চাৎপদতার ছায়ায় ঢাকা এই গ্রামটি এখন ধীরে ধীরে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গিয়ে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করছে। নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে উন্নয়নপুর, যা আজ স্থানীয়দের কাছে এক গর্বের নাম।
গ্রামের এই পরিবর্তন রাতারাতি আসেনি; বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের ফলেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছে উন্নয়নের এই চিত্র। বর্তমানে গ্রামটিতে গড়ে উঠেছে একটি মাদ্রাসা, আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ এবং একটি পাঠাগার—যা স্থানীয়দের ধর্মীয়, নৈতিক ও শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পাঠাগারটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে শিশু-কিশোরদের মধ্যে, গড়ে উঠছে সচেতন ও শিক্ষানুরাগী একটি প্রজন্ম।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। একসময়ের কাঁচা, কাদাময় ও দুর্গম পথ এখন পাকা সড়কে রূপ নিয়েছে। এতে করে গ্রামবাসীর যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। পাশাপাশি ছোট ছোট পুকুর, সবুজ পরিবেশ এবং পরিকল্পিতভাবে নির্মিত পাকা ও আধা-পাকা বসতঘর গ্রামটির সৌন্দর্য ও বাসযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।
গ্রামের সামাজিক পরিবেশেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। আগে যেখানে সুযোগ-সুবিধার অভাবে মানুষ পিছিয়ে ছিল, এখন সেখানে সচেতনতা, শিক্ষা ও উন্নয়নমুখী মানসিকতা ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ আধুনিক চিন্তাভাবনা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা শুধু নিজেরাই এগিয়ে যাচ্ছে না, বরং অন্যদেরও উৎসাহিত করছে।
উন্নয়নপুর গ্রামের এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজয় টেলিভিশন-এর রংপুর ব্যুরো প্রধান পিএম হামিদুর রহমান হামিদ। তিনি শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত, শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক গ্রাম গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পিএম হামিদুর রহমান হামিদ বলেন,“উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট বা ভবন নির্মাণ নয়; উন্নয়ন মানে মানুষের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন, শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিকাশ। আমরা উন্নয়নপুরকে এমন একটি গ্রামে রূপান্তর করতে চাই, যেখানে শিক্ষা, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন,“এই গ্রামের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি বলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করে উন্নয়নপুরকে একটি মডেল গ্রামে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই পরিবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই আজকের এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তারা জানান, আগে যেখানে মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাব ছিল, এখন সেখানে ধীরে ধীরে সবকিছুই উন্নতির পথে।
গ্রামবাসীরা আরও আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে উন্নয়নপুর একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও টেকসই গ্রামে পরিণত হবে।
সব মিলিয়ে উন্নয়নপুর এখন শুধু একটি গ্রামের নাম নয়; এটি হয়ে উঠছে উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ—যেখানে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে উঠছে একটি আলোকিত আগামী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬