
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরসহ আশপাশের জেলার সর্বত্র সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার এবং দেয়ালে সাঁটানো বোর্ডগুলোতে বানান ভুলের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। বাদ নেই সরকারি অফিসও। এসবের কারণে ভাষা বিকৃতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও ভুল বানান ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা এসব ভুল বানান শিখছে। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি ও বাংলা নববর্ষ এলে বাংলা বানান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। তবে ভুল বানানের বিরুদ্ধে সারা বছরই তৎপরতা চালানো যেতে পারে বলে অভিমত সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টদের। তাদের দাবি, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও এগিয়ে আসতে পারে।
মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে রংপুর মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চোখে পড়ল বানান ভুলের বিষয়টি। রংপুরের ভাষাসৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ মরহুম নূরুল ইসলামের বাড়ির সড়কটির সাইনবোর্ডে ‘সরণী’ বানান লেখা হয়েছে অথচ সঠিক বানান হবে ‘সরণি’। শালবন ইন্দ্রা মোড়ের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের দেওয়ালে লেখা আছে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি বাণী ‘যে কখনও ভূল করে না সে নতুন কিছুর চেষ্টা করে না’। অথচ এখানে ‘ভুল’ বানানটাই ‘ভূল’ লেখা আছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ গেট সংলগ্ন দেওয়ালে লেখা আছে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেসণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ চাই’ এখানে সঠিক বানান হলো ‘গবেষণা’। পুরাতন রংপুর খ্যাত মাহিগঞ্জ তাজহাট এলাকায় মূল রাস্তার পাশে চোখে পড়ল সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সাইনবোর্ড। সেখানে প্রশিক্ষণ বানানটি ‘ন’ দিয়ে লেখা। ‘৪০০ মিটার’ লিখতে ৪০০-এর পরে দেওয়া হয়েছে অপ্রয়োজনীয় হাইফেন (-) চিহ্ন। সেই সঙ্গে ‘রংপুর’ লিখতে ‘ব’ এবং শেষে অপ্রয়োজনীয় দাঁড়ি যতিচিহ্ন দেওয়া হয়েছে।
ভুল বানান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরব আছেন বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক এবং রংপুরের মিঠাপুকুর পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না। তিনি প্রতিদিনই বানান নিয়ে ‘ভুল সবই ভুল’ শিরোনামে সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
কেন এমনটি হচ্ছে আর কেমন করে এই ভুল বানান থেকে মুক্তি মিলবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বানান ভুল হওয়ার একটি প্রধান কারণ আঞ্চলিকতা।
এছাড়া, ব্যাকরণ সম্পর্কে ধারণা কম এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত অভিধান ব্যবহার না করা আরেকটি কারণ বলে মনে করেন তিনি।
আবিদ করিম মুন্নার মতে, কোনো লেখা প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ কাউকে দেখিয়ে নিলেই এই জটিলতা থেকে সহজে নিস্তার সম্ভব। তিনি অভিধান পাঠের ওপর শিক্ষার্থীদের জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতিও এ বিষয়ে খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬