
রিয়াজ রহমান, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
একসময় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় গ্রামবাংলার অপরিহার্য চিত্র ছিল তাল ও খেজুর গাছের সারি। উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার গ্রামাঞ্চলের সড়ক, কৃষিজমি ও বাড়ির চারপাশজুড়ে ছিল এসব গাছের উপস্থিতি। আর সেই গাছগুলোতেই বর্ষা আসার আগমুহূর্তে চোখে পড়ত বাবুই পাখির ঝুলন্ত নান্দনিক বাসা যা ছিল প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে তাল ও খেজুর গাছ নির্বিচারে কেটে ব্যবহার করায় ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে এই গাছগুলো। ফলে কমে যাচ্ছে বাবুই পাখির আবাসস্থলও।
বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে যখন সজীবতা ফিরে আসে, তখনও শিবচরের কিছু এলাকায় দেখা মিলছে বাবুই পাখির ব্যস্ততা। বিশেষ করে তাল ও খেজুর গাছের ডালে ঝুলে থাকা তাদের নিপুণ হাতে গড়া বাসা এখনও মুগ্ধ করে পথচারীদের। পুরুষ বাবুই পাখিরা শুকনো ঘাস, পাতা ও তন্তু দিয়ে যত্নসহকারে বাসা তৈরি করে যার মাধ্যমে তারা স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। সুন্দর ও মজবুত বাসা তৈরি করতে পারলেই তারা সঙ্গী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়।
উপজেলার যাদুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা ঝুমুর আক্তার বলেন, “বর্ষা আসার আগেই এই পাখিগুলোর এমন কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, বাবুই পাখির বাসা বাঁধা মানেই বর্ষা খুব কাছেই।”
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাবুই পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গাছপালা কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের কারণে এদের সংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। তাই এই পাখিদের টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ইটভাটায় লাকড়ি পোড়ানো বন্ধ না হলে তাল ও খেজুর গাছ সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাবে। এর ফলে শুধু বাবুই পাখিই নয়, অন্যান্য পাখির আনাগোনাও কমে যাবে এবং নষ্ট হবে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
তারা আরও বলেন, এখনই প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অসাধু ইটভাটা মালিকদের কারণে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে প্রকৃতির সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, যা একসময় গ্রামবাংলার পরিচয়ের অংশ ছিল।
প্রকৃতি যেন নীরবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে গাছ বাঁচান, পাখি বাঁচান, পরিবেশ রক্ষা করুন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬