আলী কদর পলাশ :
মতিঝিলের ফুটপাত থেকে এক নতুন গল্প
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল। দেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন যেখানে প্রতিদিন ছুটে চলে ব্যাংক, করপোরেট অফিস আর হাজারো মানুষের ব্যস্ততা। সেই ব্যস্ততার মাঝেই বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরের সামনে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করছেন শেফালী দাস। সাধারণ চোখে তিনি একজন মুচি। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, তিনি আসলে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
ছোট পসরা, বড় পরিবর্তন
কাঠের ছোট্ট বাক্স, কিছু ব্রাশ, কালি আর পুরোনো সরঞ্জাম—এই নিয়েই তার কর্মজীবন। তবে এই সাধারণ পসরার মধ্যেই যোগ হয়েছে এক অসাধারণ সংযোজন। তার সামনে ঝুলছে বিকাশ, নগদ, রকেট, ভিসা এবং বাংলাকিউআরের কিউআর কোড। ১০ বা ২০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের কাজেও তিনি গ্রহণ করছেন ডিজিটাল পেমেন্ট। খুচরা টাকার সীমাবদ্ধতা যেখানে একসময় তার কাজকে আটকে রাখত, এখন প্রযুক্তিই সেখানে খুলে দিয়েছে নতুন পথ।
প্রযুক্তির সহজ ব্যবহার
শেফালী দাসের এই উদ্যোগ শুধু আধুনিকতার ছোঁয়া নয়, এটি বাস্তব প্রয়োজনের বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান। নগদ টাকা না থাকলেও এখন আর কোনো ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিতে হয় না। মোবাইলের একটি স্ক্যানেই সম্পন্ন হচ্ছে লেনদেন। এতে যেমন ক্রেতার সুবিধা বেড়েছে, তেমনি তার নিজের কাজও হয়েছে আরও সহজ ও নিশ্চিত।
প্রান্তিক থেকে মূলধারায় সংযোগ
ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন একসময় নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন পৌঁছে গেছে প্রান্তিক মানুষের হাতে। শেফালী দাস সেই পরিবর্তনেরই বাস্তব উদাহরণ। তিনি কোনো বড় উদ্যোক্তা নন, তবু প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে যুক্ত করেছেন দেশের বিস্তৃত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে। তার প্রতিটি লেনদেন এখন আর শুধু নগদের বিনিময় নয়, বরং একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক কাঠামোর অংশ।
অভিযোজনের শক্তি
জীবনের প্রতিকূলতার মাঝেও শেফালী দাস বুঝে নিয়েছেন সময়ের পরিবর্তন। তিনি প্রযুক্তিকে ভয় পাননি, বরং তাকে গ্রহণ করেছেন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী। এই অভিযোজন ক্ষমতাই তাকে আলাদা করেছে। এটি শুধু পেশাগত টিকে থাকার কৌশল নয়, বরং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।
এক নতুন বাংলাদেশের প্রতীক
বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প শুধু বড় বড় প্রকল্প বা পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। এই গল্প লুকিয়ে আছে এমন অসংখ্য মানুষের জীবনে, যারা নীরবে পরিবর্তনকে গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন। শেফালী দাস তাদেরই একজন। তার ছোট্ট দোকান আজ আর শুধু জুতা মেরামতের জায়গা নয়। এটি এক পরিবর্তিত বাংলাদেশের প্রতীক, যেখানে শ্রম আর প্রযুক্তি মিলেমিশে তৈরি করছে নতুন বাস্তবতা।
শেষ কথা
শেফালী দাস আমাদের শেখান, উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনে কাজে লাগে। ফুটপাতের এই নারী তাই শুধু একজন শ্রমজীবী মানুষ নন। তিনি এক নতুন সময়ের প্রতিনিধি।
আর সেখানেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত অন্তর্দৃষ্টি।
বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন
https://thebusinessin.com/2026/04/12/shefali-das-the-footpath-entrepreneur-powering-bangladeshs-digital-inclusion/
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬