দীর্ঘ ৪৮ বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন করে দুই দেশ এখন যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত সামরিক প্রতিক্রিয়া, কৌশলগত সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ফলে যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চাপ তৈরি করে।
এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরে জনগণের ঐক্য এবং সরকারের প্রতি সমর্থন দেশটির অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। অনেকের ধারণা ছিল, নেতৃত্বে আঘাত এলে ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়। ইউরোপ ও ন্যাটো দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা একা হয়ে পড়ে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের এই বৈঠকের দিকে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬