তারেক মাহমুদ, ঈশ্বরদী উপজেলা প্রতিনিধি :
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মৌসুমী মধু চাষীদের ভাষ্যমতে, কেবল চলতি মৌসুমেই এ অঞ্চল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ২৪ মেট্টিক টন। যা পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে লিচুর ফুল থেকে মধু চাষের আওতায় থাকা মোট জমির পরিমান ছিলো ১৫৭৫ হেক্টর। বিস্তৃত এই বাগান গুলোতে ব্যবহৃত মোট মৌমাছির বাক্সের সংখ্যা ছিল ১২৩১০ টি। আর এসব বাক্স থেকে এবছরের চলতি মৌসুমে মধু সংগ্রহ হয়েছে ২৩৪৬০ কেজি বা ২৩. ৪৬ মেট্টিকটন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ (সত্তর) লক্ষ ৩৮ (আত্রিশ) হাজার টাকা।
উপজেলার সলিমপুর , সাহাপুর, দাশুড়িয়া এবং পাকশী ইউনিয়নের বিস্মৃত এলাকা জুঁড়ে ছোট বড় মোট লিচুর বাগান রয়েছে মোট ১১ হাজার ২৭০ টি। যা মৌসুমী মধু চাষীদের জন্য আদর্শ বাগান হিসেবে বহুল পরিচিত।
জয়নগর প্রামানিক পাড়া এলাকায় ৩০০ (তিনশত) বক্স নিয়ে ও ১ হাজার ৫০০ শত (পনের শত) ফ্রেম নিয়ে লিচুর মধু সংগ্রহকারী চাষী মো: সওকত আলি দৈনিক মুখপাত্র কে বলেন, বছরের প্রায় ৭ মাস ধরে চলে মধু চাষের এই কর্মযজ্ঞ। প্রতিটি বক্স থেকে ৬ থেকে ৭ দিন পর পর মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ কাল থাকে সাধারণত ১ মাস। এবছর লিচু ফুলের মৌসুম শেষের দিকে। তবে আজ অবধি আমাদের লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ টন। যার গড় বাজার মূল্য প্রায় ১০ (দশ) লক্ষ টাকা।
তবে লিচু ফুল বাদেও, আম, সরিষা, কালোজিরা, ধনিয়া, শিমুলসহ আরও কিছু ফুল রয়েছে সেগুলো থেকেও বছরের এই সাতমাস ধরে মধু সংগ্রহ করা হয়। তবে বাকী সময় গুলোতে প্রকৃতিতে কোন ফুল না থাকায় মৌমাছি গুলোকে তৈরী খাবার প্রদানের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখতে হয় বলেও জানান মধু চাষী মোহাম্মদ আলী।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন দৈনিক মুখপাত্র কে বলেন, এবছর ঈশ্বরদীতে আম এবং লিচুর মুকুল এসেছে রেকর্ড হারে। তাই বেশী ফুল থেকে বেশী মধু আহরণ সম্ভব হয়েছে। ঈশ্বরদীর স্থানীয় ১০ থেকে ১৫ জন মৌচাষী রয়েছে। তবে এবছর তাদের বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মধু আহরণের জন্য অনেক চাষী ও অনলাইন ব্যাবসায়ী গণ এসেছেন অত্রাঞ্চলে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে লিচুর ফুল থেকে মধু চাষের আওতায় ছিলো ১৫৭৫ হেক্টর জমি। মোট মৌমাছির বাক্সের সংখ্যা ছিল ১২৩১০ টি। এখন পর্যন্ত মধু সংগ্রহ হয়েছে ২৩৪৬০ কেজি বা ২৩. ৪৬ মেট্টিকটন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ (সত্তর) লক্ষ ৩৮ (আত্রিশ) হাজার টাকা। যা এ যাবৎ কালের রেকর্ড বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬