
বিশেষ প্রতিবেদক
গুম প্রতিরোধ, বিচার ব্যবস্থা সংস্কার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর না করার সুপারিশ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি বলছে, এসব সিদ্ধান্ত বিশেষ কমিটির আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে, তবে সমালোচকরা এটিকে সংস্কার প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, কমিটির একাধিক বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেন এবং বিস্তারিত আলোচনা শেষে সুপারিশ করা হয়। তাঁর দাবি, কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইন বিশেষভাবে আলোচিত ছিল। এতে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়। তবে সরকার মনে করছে, জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। এই জায়গাতেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অধ্যাদেশে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা সংশোধনের মাধ্যমে সমাধান করা যেত। পুরো আইন কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। দলের কিছু সদস্যও এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একইভাবে বিচার বিভাগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন এবং নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এসব উদ্যোগ কার্যকর না হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও আপাতত স্থগিত হয়েছে। এতে কমিশনকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সংস্কারের গতি কমে যাবে, অন্যদিকে সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে নতুন আইন আনা হতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় আলোচনায় এই বিতর্ক কোন দিকে যায় এবং সংশোধনের মাধ্যমে আবারও এসব আইন ফিরে আসে কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬