
নিজস্ব প্রতিবেদক
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে আগাম কৌশল নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সংকট নয়, বরং দূরদর্শী প্রস্তুতির অংশ।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালীর জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করছে।” এই তেল লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে আনা হবে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্র জানায়, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, “ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কারণ এই রুট হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তুলনামূলক কম। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
বিএসসি তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল নতুন জাহাজে ১ লাখ টন তেল লোড করা হবে। আর মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল দেশে পৌঁছাতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে বর্তমান চাপ অনেকটাই কমবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানিয়েছে, এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে থাকবে প্রায় ৫২ হাজার টন ডিজেল, ৩২ হাজার টন পেট্রোল, ১৬ হাজার টন অকটেন, ৪৮ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার টন কেরোসিন। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
এদিকে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, “চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজি সহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।” অর্থাৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো স্থবিরতা তৈরি হয়নি।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
সব মিলিয়ে এটি একটি সংকট নয় বরং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার উদাহরণ। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬