আলী কদর পলাশ
বাংলাদেশে জ্বালানি তেল নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কেবল সরবরাহের প্রশ্ন নয়। এটি এখন শাসনব্যবস্থা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক আচরণেরও পরীক্ষা।
সরকার বারবার বলছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, বিক্রি বন্ধ, অকটেন নেই লেখা প্ল্যাকার্ড এবং সীমিত সরবরাহ মানুষের মনে উল্টো বার্তা দিচ্ছে।
এই দ্বৈত বাস্তবতাই অস্থিরতার মূল কারণ। মানুষ যখন সরকারি আশ্বাসের সঙ্গে মাঠের চিত্র মিলাতে পারে না, তখন আতঙ্ক বাড়ে। সেই আতঙ্ক থেকেই বাড়তি কেনাকাটা শুরু হয়। আর তখনই সুযোগ নেয় মজুতদার ও কালোবাজারিরা।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি, গোয়ালঘর, এমনকি বাঁশঝাড়ের নিচে তেল মজুতের ঘটনা প্রমাণ করে যে সংকট শুধু বাজারে নয়, নৈতিকতাতেও। একদল মানুষ জনদুর্ভোগকে মুনাফার সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। ফুয়েল কার্ড চালু করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কোথাও কার্ড নিতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। কোথাও মারামারি। কোথাও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তেলকে ঘিরে এখন সহিংসতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। নড়াইলে পাম্প ম্যানেজারকে হত্যা, বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, জোর করে তেল নেওয়ার চেষ্টা। এসব ঘটনা কেবল জ্বালানি সংকটের চিত্র নয়। এগুলো সামাজিক ভাঙনেরও লক্ষণ।
এখন প্রয়োজন কঠোর নজরদারি। প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য। প্রয়োজন বাজারে দৃশ্যমান সরবরাহ। শুধু আশ্বাস দিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানো যাবে না। মাঠে সেই আস্থার প্রমাণও দেখাতে হবে।
একই সঙ্গে জনগণকেও সংযম দেখাতে হবে। আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। এতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশে যে কোনো সংকটে একই চিত্র বারবার দেখা যায়। ঘাটতির চেয়ে গুজব বড় হয়। সমস্যার চেয়ে অব্যবস্থাপনা বড় হয়। আর সবার আগে সক্রিয় হয় অসাধু চক্র। এই চক্র ভাঙতে না পারলে ভবিষ্যতেও একই দৃশ্য ফিরে আসবে।
তেলের চেয়ে বড় সংকট এখন আস্থার। মানুষ যদি বাজারে স্বস্তি না দেখে, তবে সরকারি বক্তব্যে শান্ত হবে না। তাই সময় থাকতে কঠোর ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬