রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের উত্তর মাদাই খামার এলাকায় এক অসহায় বিধবা বৃদ্ধার জমিতে থাকা আমগাছ উপড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিধবা নারী জেলেকা বেগম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লোহানীপাড়া উওর মাদাই খামার গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার স্ত্রী জেলেকা বেগম দীর্ঘদিন ধরে খাস খতিয়ানভুক্ত ২৫ শতক জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে তার ছোট বোনসহ বসবাস করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ও ভূমিহীন হওয়ায় ওই জমির বাকি অংশে চাষাবাদ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রতিবেশী প্রভাবশালী মোঃ আতাউর রহমান (৪০), পিতা- সিদ্দিক, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিটি অন্যায়ভাবে দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন। এর আগে বিবাদী আতাউর রহমান ওই জমিতে রোপণ করা গাছপালা উপড়িয়ে নষ্ট করে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার সময় জেলেকা বেগম ও তার বোন ওই জমিতে পুনরায় গাছ রোপণ করতে গেলে আতাউর রহমান তাদের বাধা প্রদান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে বিবাদী তাদের গালিগালাজ করেন এবং পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, ওই জমিতে তাদের নামতে দেওয়া হবে না। এমনকি তারা যদি পুনরায় জমিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাদের হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জেলেকা বেগম বলেন, আমি একজন বিধবা মানুষ, আমার স্বামী নেই, কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই। এই জমিটুকুই আমার শেষ সম্বল। এখান থেকেই আমি আর আমার বোন বেঁচে আছি। কিন্তু এখন তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং জোর করে জমি দখল করতে চাইছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমার গাছপালা উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে আমি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন আবার নতুন করে গাছ লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমতাজ আলী বলেন,ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একজন অসহায় বিধবা নারীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে।তিনি আরও বলেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তারা বলেন, একজন অসহায় বিধবা নারীর একমাত্র জীবিকা ও বসবাসের জায়গা দখলের চেষ্টা মানবিকতা ও আইনের পরিপন্থী। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।অনেকেই ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন,প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬