বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে নিলাম ছাড়াই একটি পুরোনো কালভার্ট ভোঙে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে
উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মারাত্মক ঘাটতির একটি উদাহরণ এই ঘটনা। কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই কালভার্ট ভেঙে ফেলা এবং মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে হঠাৎ ভাঙার কারণে হাজারো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাঞ্ছারামপুর–কদমতলী–মরিচাকান্দি সড়কের কদমতলী উত্তরপাড়ায় পুরোনো একটি কালভার্টের স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী পুরোনো স্থাপনা উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এতে নতুন কদমতলী ও তাতুয়াকান্দি, মরিচাকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কবরস্থানে যাতায়াত হঠাৎ করেই ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট ভাঙার পরপরই লোহার রডসহ মূল্যবান সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অনিয়মের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
কদমতলী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আকলিমা বেগম বলেন, সকালে এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে গিয়েছেন, কিন্তু এখন কীভাবে ফিরবেন তা বুঝতে পারছেন না। তিনি জানান, এই পথে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করে তাদের নিরাপদে পারাপার এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিকল্প রাস্তা ছাড়া এভাবে সরকারি সম্পদ বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তাতুয়াকান্দি গ্রামের শহীদুল ইসলাম বলেন, বিকল্প রাস্তা না রেখে কালভার্টটি ভেঙে ফেলায় মসজিদ ও কবরস্থানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, গ্রামের একজনের মৃত্যুর পর লাশ কবরস্থানে নেওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। অন্তত অস্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কালভার্টটি ভাঙা হচ্ছে বা কারা কাজ করছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি নিলামে দেওয়ার জন্য আমাদের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশেই কাজটি হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬