আলী কদর পলাশ
শনিবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হওয়া এ বৈঠক স্বাভাবিক কোনো রুটিন বৈঠক নয়। সরকার গঠনের এক মাস পার হতে না হতেই একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্ট করে, ক্ষমতায় বসা যত সহজ, দায়িত্বের ভার বহন করা তত সহজ নয়।
খবরে জানা গেছে, অন্তত ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবস্থা জানতে চাওয়া হয়েছে। তেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কী, তা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে প্রশ্নও উঠেছে। ঈদযাত্রার দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সড়ক ও নৌপরিবহণ খাতের দায়িত্বশীলদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বৈঠকে এমন সব বিষয়ই উঠে এসেছে, যেগুলো সরাসরি মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।
এখানেই এই বৈঠকের গুরুত্ব। কারণ জনগণ সরকার বদলের পর শুধু মুখের ভাষা বদল দেখতে চায় না। তারা সেবার মানে পরিবর্তন চায়। তারা বিদ্যুৎ চায়, নিরাপদ যাত্রা চায়, কার্যকর প্রশাসন চায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান চায়। সেই জায়গায় মন্ত্রীদের জবাবদিহির আওতায় আনা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু একটি প্রশ্ন এড়ানোর উপায় নেই। এই জবাবদিহি কি বাস্তব শাসনচর্চার অংশ, নাকি কেবল রাজনৈতিক বার্তা?
মন্ত্রীদের ডেকে প্রশ্ন করা সহজ। কঠিন হলো ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা। আরও কঠিন হলো অদক্ষতা, গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া। যদি বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে, কিন্তু পরে সব আগের মতোই চলতে থাকে, তবে এই আয়োজনের কোনো মূল্য থাকে না। তখন এটি জনমনে আস্থা নয়, বরং সংশয়ই বাড়াবে। কারণ মানুষ এখন আর ঘোষণায় বিশ্বাস করে না। তারা ফল দেখে। তারা দেখে রাস্তায় মৃত্যু কমল কি না, বিদ্যুতের সংকট কাটল কি না, মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে গতি এলো কি না।
জবাবদিহির সংস্কৃতি দলীয় কক্ষে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তা প্রশাসনে নামতে হবে। মন্ত্রণালয়ে নামতে হবে। মাঠপর্যায়ে নামতে হবে। ভুল হলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যর্থ হলে তার দায় নিতে হবে। দায়িত্বে থেকে ব্যর্থতার পরও অক্ষত থাকার পুরোনো সংস্কৃতি টিকিয়ে রেখে নতুন রাজনীতির দাবি করা যায় না।
এই বৈঠক তাই একটি শুরু হতে পারে। কিন্তু শুরুই শেষ নয়। জনগণ এখন দেখতে চায়, প্রশ্নের পর ব্যবস্থা হয় কি না। নির্দেশনার পর পরিবর্তন আসে কি না। জবাবদিহির পরিণাম থাকে কি না। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোরতা, শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা না থাকলে কোনো সরকারেরই সাফল্যের দাবি টেকে না। কথার রাজনীতি অনেক হয়েছে। এখন প্রয়োজন কাজের প্রমাণ।
২৯ মার্চ, ২০২৬
ধানমন্ডি, ঢাকা
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬