মোঃ রাব্বী মোল্লাঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কৃষ্ণনগর ও রুপারঝোর গ্রাম—কালাদা নদীর তীরঘেঁষা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ—বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। একসময় উর্বর জমি ও কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চামটা কৃষ্ণনগর বাজার থেকে রুপারঝোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে মোল্লারহাট ব্রিজ হয়ে বোয়ালিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কালাদা নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক তীব্র ভাঙনের ফলে সড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
শুধু সড়কই নয়, নদীভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য ফসলি জমি, বসতভিটা ও গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা হারাচ্ছেন তাদের জীবিকা ও নিরাপদ আশ্রয়। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) জুম্মার নামাজ শেষে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা কামাল হাওলাদারের নেতৃত্বে এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কালাদা নদীর তীরে দ্রুত ভেরিবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনের কারণে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, কালাদা নদীর তীরে একটি টেকসই ও স্থায়ী ভেরিবাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এতে করে রক্ষা পাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কৃষিজমি এবং অসংখ্য মানুষের বসতবাড়ি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা কামাল হাওলাদার পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে -এর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সম্ভাবনাময় কৃষি অঞ্চলটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে।”
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে স্থানীয় মানুষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬