
আজাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর একটি আমবাগানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল দুর্বৃত্ত অনধিকার প্রবেশ করে ১১০ টি গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে এবং কিছু আম গাছের ডালের ক্ষতি সাধন করেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে, গত বুধবার দুপরে গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি মো. করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু, বকুল শেখ, নজরুল ইসলাম ও ওসমান আলীকে দামুড়হুদার আমলী আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরান ঢালী আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এঘটনায় জমির মালিক দামুড়হুদার চন্দ্রবাস গ্রামের মৃত মওলা বকসের ছেলে বাহালুল হক বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে দামৃুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস চুয়াডাঙ্গা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার করিমুজ্জামান ওরফে মিঠু (৫৫), চুয়াডাঙ্গা কোর্টপাড়ার মৃত হায়দার আলীর ছেলে বকুল শেখ (৫১). দামুড়হুদার কুতুবপুর গ্রামের সুরত আলী মন্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ওসমান আলী (৪৫) । আসামিদের বিরুদ্ধে ৪৪৭/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৫০৬/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, দামুড়হুদার শিবনগর ডিসি ইকো পার্কের সামনে মামলার বাদীর প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর মেহগনি, লম্বু, আম, লিচু গাছসহ বিভিন্ন ধরণের কাঠ ও ফলের গাছের বাগান আছে। তিনি গত ৯ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে কে বা কারা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পান। পরবর্তীতে বাদী বাগানে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জিজ্ঞাসা করলে আসামিরা গালি দেয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তিনি দামুড়হুদা থানায়য় এব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, দামুড়হুদার বোয়ালমারি গ্রামের মৃত তৈয়বের ছেলে মজনু (৬০), চন্দ্রবাসের দুরুনের ছেলে ছানোয়ার (৪৫), মুন্সিপুরের রফিকুল (৪৫), চন্দ্রবাসের সুলতানের ছেলে তরিকুল (৩৫) ও মৃত কাজেমের ছেলে নজির (৫০), শিবনগরের জালালের ছেলে রহমান (৪০) এবং অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জন। চুরি হওয়া গাছগুলো হলো, ১৫ টি মেহগনি গাছ, ৫টি লম্বু গাছ, ১৮টি কচালম্বু গাছ, ২ টি একাশি গাছ, ৭০ টি বাঁশ গাছ। যার দাম আনুমানিক ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এছাড়া এসময় উল্লেখিত আসামীরা আম গাছসহ বিভিন্ন ধরণের গাছের ডাল কেটে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দামুড়হুদা মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শুভজিৎ পাল বলেন, ‘চুরি হওয়া গাছ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি এবং চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। এজাহারভুক্ত বাকী আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। অপরদিকে উক্ত আসামীরা আটকের চারদিন পরই জামিনে বেরিয়ে এসে বাগান মালিক বাহালুলকে তার বাড়িতে যেয়ে মামলা উঠিয়ে নিতে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। একারনে বাহালুল প্রানভয়ে নিজ বাড়িতে থাকতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগর গ্ৰামের ডিসি ইকো পার্কের সামনের এ আমবাগানে অসৎ উদ্দেশ্যে একদিল শাহ নামক এক পীরের কথিত মাজার আছে এমন মিথ্যা প্রচারণা ছড়িয়ে এ মামলার আসামিরা বিগত ২০ বছর যাবত মামলার বাগান লুট মামলার বাদী বাহালুল হক ও তার পিতা মওলা বকসের নামে এক ডজনেরও বেশি মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করে আসছেন। সবক'টি মামলায় আদালত থেকে কথিত আসামীরা ইতিমধ্যেই অব্যাহতি পেয়েছেন। বর্তমানে দামুড়হুদা সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী ১১৩/২০০৬ নং মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। উক্ত মোকদ্দমায় এ মামলার বাদী বাহালুল বিবাদী হিসেবে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন আছে। উক্ত দেং ১১৩/০৬ নং মোকদ্দমায় বিবাদীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে উক্ত নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর হয়। প্রকৃতপক্ষে পীর একদিল শাহ নামীয় মাজার শরীফ আলমডাঙ্গা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর ও বেতবাড়িয়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এবং প্রতি বছর সেখানে ওরষ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অন্যের জমি জবর দখলের কুমতলবে শিবনগর গ্ৰামের আলোচিত বাগানের গাছ কেটে লুট করে এ জমিতে একদিল শাহর আরও একটি কথিত! মাজার তৈরি করা হয়েছে। একই ব্যক্তির দুটি মাজার হয় কখনও? ঘৃন্য এ কাজে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬