মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু সেই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ঢেউ দ্রুত পৌঁছে যায় জ্বালানি বাজারে। আর জ্বালানির বাজার অস্থির হলে তার অভিঘাত পড়ে প্রতিটি দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে।
ইরানের হামলায় সৌদি আরবের বৃহৎ তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং একই দিনে কাতারের এলএনজি উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। কারণ আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। দেশের প্রায় শতভাগ জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আসে। অপরিশোধিত তেলের পুরোটা আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আবার গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।
এ বাস্তবতায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছিল ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যেই আবার সরবরাহ কমিয়ে আনতে হয়েছে আরও ২০ কোটি ঘনফুট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমতে পারে। কোথাও কোথাও লোডশেডিং বাড়তে পারে। রান্নার গ্যাস নিয়েও ভোগান্তির আশঙ্কা আছে।
সরকার ইতিমধ্যে তেল ও গ্যাস সাশ্রয়ের নির্দেশনা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু নির্দেশনা দিলেই হবে না। সাশ্রয়কে সামাজিক অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে হবে। শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিকল্প জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকেও নজর বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করতে হবে। শুধু একটি বা দুটি অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির সংঘাত আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু তার প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি আমাদেরই নিতে হবে। সংকটের সময় অপচয় কমানোই সবচেয়ে বড় শক্তি। এখন সাশ্রয় শুধু একটি নির্দেশনা নয়, এটি জাতীয় প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬