রংপুর প্রতিনিধি
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রংপুরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ যথাযথভাবে অনুসরণ না করে জাতীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি না করায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অবজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে। অথচ প্রটোকল তালিকা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান ১৩তম, যেখানে বিভাগীয় কমিশনারের অবস্থান ২৪তম। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সরকারি কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট আসনের এমপিকেই প্রধান অতিথি করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের আয়োজনে সেই রীতি অনুসরণ করা হয়নি। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যেও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তাকে প্রধান অতিথি করা হয়নি এমন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এটি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মর্যাদাহানির শামিল।
এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, জেলা প্রশাসন তার পদমর্যাদা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাকে অবমূল্যায়ন করেছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সেদিন তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান বলেন, একজন এমপিকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধান অতিথির মর্যাদা না দেওয়া অপমানজনক। এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আলম বেনজু বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী এমপির অবস্থান বিভাগীয় কমিশনারের উপরে। সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত ছিল।
রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং কিছু সমন্বয়গত ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তিনি এমপির সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার কথা জানান। এ বিষয়ে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের মর্যাদা যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর শৃঙ্খলা ও সম্মান রক্ষার প্রতীক। যথাযথ প্রটোকল অনুসরণ করা হলে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। এদিকে বিষয়টি নিয়ে রংপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সমাধান ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে এ বিতর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬