
দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে পদ-পদবি ও নিয়োগ নিয়ে যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার স্থান। এখানে যুক্তি থাকবে, মতভেদ থাকবে। কিন্তু হাতাহাতি বা প্রকাশ্য বিরোধ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার ও অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ও তার বাইরে নয়। একপক্ষ প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। অন্যপক্ষ নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে তৎপর। এই প্রতিযোগিতা যখন নীতিগত আলোচনা ছাড়িয়ে প্রকাশ্য উত্তেজনায় রূপ নেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা।
শিক্ষক সমাজ জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত। তাঁদের আচরণ ও ভাষা শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। সেখানে পদ-পদবি নিয়ে সংঘাতের দৃশ্য শিক্ষার্থীদের কাছে ভুল বার্তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থির হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। গবেষণা থেমে যায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনামও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা করেছেন পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। এই আশা বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু নির্দেশনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সংলাপ। প্রয়োজন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া। প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা।
সরকারেরও দায়িত্ব আছে। কঠোর নির্দেশনা দিয়ে সাময়িক শৃঙ্খলা আনা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাধান আসবে নীতিমালা পরিষ্কার করলে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষক সমাজকেই আত্মসমালোচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র নয়। এটি জ্ঞান, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র। পদ-পদবি সাময়িক। কিন্তু একটি প্রজন্মের মানস গঠনের দায়িত্ব স্থায়ী।
শিক্ষাঙ্গনে দ্বন্দ্ব নয়, চাই সংলাপ ও শালীনতা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির হলে অস্থির হয় ভবিষ্যৎ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬