আলী কদর পলাশ
১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এটি নিঃসন্দেহে বড় খবর। কারণ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন মানেই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
খবরে বলা হচ্ছে, শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন হবে। শোক প্রস্তাব থাকবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণও থাকবে। অর্থাৎ শুরুটা হবে প্রথা মেনেই। এটি ভালো লক্ষণ।
তবে ভালো লক্ষণের পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠে আসে। প্রশ্নগুলো রাজনীতি নয়। প্রশ্নগুলো শাসনব্যবস্থার। আর মানুষের আস্থা তৈরির।
সংবিধান ও প্রচলিত রীতিতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অধিবেশন আহ্বান করেন। এটিও খবরে এসেছে। আবার বলা হয়েছে, অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে প্রজ্ঞাপন জারির বিধান আছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সেই সময়রেখা মেনেই ১২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। কাগজে-কলমে এটি ঠিক থাকাই উচিত। কিন্তু মানুষ জানতে চায়, এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে হচ্ছে। সারসংক্ষেপ, অনুমোদন, প্রজ্ঞাপন—সব ধাপ যেন নিয়ম মেনে, প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দিয়ে সম্পন্ন হয়। গণতন্ত্রে নিয়ম মানা যেমন জরুরি, নিয়ম বোঝানোও তেমন জরুরি।
প্রথম অধিবেশনকে অনেকেই ‘ফাউন্ডেশন সেশন’ বলছেন। কথাটি যথার্থ। কারণ সদস্যদের শপথ, আসন বিন্যাস, স্থায়ী কমিটি গঠন—এসব দিয়েই সংসদের কাজের ভিত্তি তৈরি হয়। এখানেই আসল পরীক্ষা। স্থায়ী কমিটি কেমন হবে। কারা নেতৃত্বে থাকবেন। বিরোধী দলের ভূমিকা কীভাবে সম্মান পাবে। সংসদীয় কমিটিগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এসব বিষয়ের ওপরই নির্ভর করবে সংসদ কাগজে থাকবে, নাকি জীবন্ত হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে অধ্যাদেশের বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল। অধ্যাদেশ কখনো কখনো জরুরি প্রয়োজনে হয়। কিন্তু এটি নিয়মিত অভ্যাস হয়ে গেলে সংসদের ভূমিকা দুর্বল হয়। তাই প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশগুলোর ওপর যথাযথ আলোচনা দরকার। প্রয়োজন হলে সংশোধন দরকার। প্রয়োজন না থাকলে বাতিলের সাহসও দরকার। কারণ আইন বানানোর জায়গা সংসদ। নির্বাহী আদেশ দিয়ে আইনচর্চা সংসদের বিকল্প হতে পারে না।
আরেকটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম অধিবেশনে শোভন আচরণ নিশ্চিত করা। হইচই, হট্টগোল, বয়কট এগুলোকে আমরা বহুবার দেখেছি। মানুষ ক্লান্ত। মানুষ চায়, সংসদ হবে সমস্যা সমাধানের জায়গা। দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এসব প্রশ্নে সংসদ কথা বলবে। সরকার জবাব দেবে। বিরোধী দল যুক্তি দেবে। জনগণ লাভবান হবে।
এই সংসদের প্রথম অধিবেশন তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়। এটি একটি প্রতিশ্রুতির মুহূর্ত। প্রতিশ্রুতি হবে নিয়ম মানার। প্রতিশ্রুতি হবে বিতর্কের স্বাধীনতার। প্রতিশ্রুতি হবে অধ্যাদেশ-নির্ভরতা কমানোর। প্রতিশ্রুতি হবে সংসদীয় কমিটিকে শক্তিশালী করার। প্রতিশ্রুতি হবে সংসদকে জনগণের সত্যিকারের মঞ্চ বানানোর।
১২ মার্চের অধিবেশন যদি সেই আস্থার ভিত গড়ে দিতে পারে, তবে সেটিই হবে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর। যদি না পারে, তবে তারিখ বদলাবে না, কিন্তু মানুষের হতাশা আরও বাড়বে। দেশের জন্য দ্বিতীয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬