আলী আহসান রবি
রাজনীতির মঞ্চে কখনও কখনও ইতিহাস ফিরে আসে নতুন নামে। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। নাটোর-১ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি শুধু সংসদ সদস্যই হননি, রাজশাহী বিভাগের একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী হিসেবেও শক্ত বার্তা দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখের বেশি ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বাবার হারানো আসনে আবারও দলের পতাকা উড়েছে। এই বিজয়কে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার পুনর্জাগরণ হিসেবে।
ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোরের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি যোগাযোগ, সমাজকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নাটোর-১ ছিল তাঁর রাজনৈতিক দুর্গ। ২০০৮ সালের পর সেই আসনে দল প্রতিনিধিত্ব হারায়। এবার কন্যার হাত ধরে সেই শূন্যতা পূরণ হলো।
প্রথমবার এমপি হয়েই ফারজানা শারমিন পেয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। শপথের পর প্রথম কর্মদিবসে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দেন। বলেন, ৩৩ বছর আগে যে অফিসে তাঁর বাবা দেশের জন্য কাজ করেছিলেন, আজ তিনি সেই একই কক্ষে বসে কাজ শুরু করেছেন। বোর্ডে বাবার নামের দিকে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, বাবা যেন অপেক্ষায় ছিলেন।
এই আবেগ শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়। এটি প্রজন্মান্তরের দায়িত্ববোধের প্রকাশ। নারী নেতৃত্বের উত্থানেরও একটি প্রতীক। রাজশাহী বিভাগের একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁর সাফল্য অনেক তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
এবারের নির্বাচনে নাটোর জেলায় চারটি আসনেই বিএনপির জয় দলীয়ভাবে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তবে ফারজানা শারমিনের ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে অন্য এক বিষয়। তিনি ব্যারিস্টার। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক।
বাবার চেয়ার পাওয়া মানে শুধু উত্তরাধিকার নয়। এটি এক ধরনের দায়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়। বিশেষ করে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণের মতো মানবিক খাতের দায়িত্বে থেকে তিনি যদি বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেন, তবে এই আবেগময় প্রত্যাবর্তন সত্যিকারের ইতিবাচক গল্প হয়ে উঠবে।
নাটোরে এখন নতুন আশার কথা বলা হচ্ছে। বাবার পথ ধরে কন্যার যাত্রা শুরু হয়েছে। সামনে সময়ই বলবে, এই যাত্রা কতটা আলোকিত হবে। তবে শুরুটা নিঃসন্দেহে আবেগ, আস্থা ও অঙ্গীকারে ভরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬