
বিশেষ প্রতিনিধি
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পাশাপাশি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামে একটি পরিষদের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এই পরিষদের আইনিভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির বক্তব্য, সংবিধানের বাইরে গিয়ে এখনই এ ধরনের পরিষদ গঠনে তারা প্রস্তুত নয়। ফলে মঙ্গলবার বিএনপির সংসদ সদস্যরা ওই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। এতে শপথ অনুষ্ঠানও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, সংসদ সদস্যদের শপথের ক্ষেত্রে সংবিধানে স্পষ্ট বিধান আছে। কিন্তু “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামে কোনো কাঠামোর কথা বর্তমান সংবিধানে নেই। তাই সংসদের সিদ্ধান্তের আগে এমন পরিষদের শপথ আইনসম্মত হবে না। একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। এই পরিষদের শপথ পড়াবেন কে। শপথ পড়ানোর এখতিয়ার কার। আইনেও তার উল্লেখ নেই বলে দাবি বিএনপির।
মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুই দফায় শপথ আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। প্রথম দফায় সকাল ১০টায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ। এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় দফায় শপথ হওয়ার কথা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ নেই। স্পিকারও নেই। ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। সংবিধানে এমন অবস্থায় বিকল্প পথ রাখা আছে। রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনীত করতে পারেন। অথবা গেজেট প্রকাশের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে পারেন। সে কারণেই এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি।
কিন্তু এখানেই বিএনপির আপত্তি। তাদের বক্তব্য, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ার সিইসির আছে। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর কোনো আইনগত ক্ষমতা তার নেই। বিএনপির মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য আগে সংবিধান সংশোধনসহ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া দরকার। সংবিধানের তফসিলে শপথের ফরম থাকবে। কে শপথ পড়াবেন, সেটাও নির্ধারিত হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে শপথ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
আইন বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বর্তমান সংবিধানে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ”-এর কোনো ভিত্তি নেই। সংসদ চাইলে আইনিভিত্তি দিতে পারে। কিন্তু সংসদের সিদ্ধান্তের আগে ওই পরিষদের শপথ আয়োজন আইনসম্মত হবে না।
অন্যদিকে জানা গেছে, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী কয়েকটি দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পক্ষে আছে। তবে বিএনপি শপথ না নিলে প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬