
জাতীয় স্মৃতিসৌধ কেবল স্থাপত্য নয়। এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের শপথভূমি। এখানে দাঁড়ালে ইতিহাস নীরবে প্রশ্ন করে। আমরা কতটা এগোলাম। আমরা কতটা শিখলাম।
নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিদর্শন বইয়ে যে মন্তব্য লিখেছেন, তা নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রার কথাও উল্লেখ করেছেন।
শ্রদ্ধা ও শপথের ভাষা আমাদের রাজনীতিতে নতুন নয়। কিন্তু স্মৃতিসৌধের পবিত্র প্রাঙ্গণে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের আলাদা ওজন আছে। সেখানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেবল রাজনৈতিক নয়, নৈতিকও। কারণ এই ভূমি রক্তের ঋণে বাঁধা।
তিনি লিখেছেন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন যাত্রা শুরু করেছে। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের কথা বলেছেন। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এটি একটি বিস্তৃত ঐতিহাসিক পরিসরকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়াস।
তবে ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু ভাষণে নয়, কাজে প্রমাণিত হয়। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই চারটি শব্দই আজকের রাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড হওয়া উচিত। নিরাপত্তা মানে আইনের শাসন। মানবিকতা মানে বৈষম্যহীনতা। গণতন্ত্র মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। সার্বভৌমত্ব মানে জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান।
রাজনৈতিক পালাবদল নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। একই সঙ্গে তৈরি করে প্রত্যাশা ও চাপ। জনগণ ভোট দিয়ে যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ধরে রাখা কঠিন কাজ। শপথের ভাষা সহজ। বাস্তবায়ন কঠিন।
স্মৃতিসৌধ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। আদর্শ স্থায়ী। যারা জীবন দিয়েছেন, তারা ব্যক্তির জন্য নয়, রাষ্ট্রের ন্যায়ের জন্য দিয়েছেন। তাই যে কোনো সরকারকেই নিজেদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সেই ন্যায়ের মানদণ্ড বিবেচনায় রাখতে হবে।
আজ প্রয়োজন প্রতিহিংসার নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংলাপের সংস্কৃতি। প্রয়োজন এমন রাজনীতি, যেখানে ভিন্নমত শত্রু নয়, সহযাত্রী।
শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা একটি শুভ সূচনা হতে পারে। কিন্তু এই সূচনার পরেই শুরু আসল পরীক্ষা। ইতিহাস অপেক্ষা করবে না। জনগণও নয়।
স্মৃতিসৌধের বইয়ে লেখা প্রতিটি শব্দ যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে। তা যেন রূপ নেয় নীতিতে, আইনে ও আচরণে। তবেই শ্রদ্ধা হবে অর্থবহ। তবেই শপথ হবে সত্য।
আমরা বিশ্বাস করতে চাই। নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারের পুত্র তারেক রহমানের কথা ও কাজে মিল থাকবে। তিনি যে শপথ উচ্চারণ করেছেন, তা যেন কেবল স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে লেখা বাক্য না থাকে। তা যেন ন্যায়, মানবিকতা ও গণতন্ত্রের বাস্তব সিদ্ধান্তে প্রতিদিন প্রতিফলিত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি যেন প্রতিশোধের পথ নয়, পুনর্গঠনের পথ বেছে নেন। মানুষের নিরাপত্তা, মতের স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ফিরিয়ে আনেন। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায় তিনি যেন আস্থা ও দায়িত্ব দুটোই সমানভাবে বহন করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬