
মুখপাত্র ডেস্ক
বাংলাদেশকে নিয়ে এখনই খুব বেশি আশাবাদী হওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) রূপা হক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—‘দুই পক্ষই খারাপ’ ধরনের বিরক্তি যদি সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে সদ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় সাফল্য পেতে পারত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলটি সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ এমপি দ্য টেলিগ্রাফে লেখা এক বিশেষ নিবন্ধে এসব কথা বলেন। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ‘বাংলাদেশ নিডস অ্যা নিউ স্টার্ট—বাট উইল গেট ইট ওয়ান?’ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হয়।
রূপা হক লেখেন, বর্তমান সময়টি বাংলাদেশের জন্য নতুন করে শুরু করার সুযোগ হতে পারত। পুরোনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু তিনি মনে করেন, বেশি আশাবাদী হওয়া বোধ হয় ঠিক হবে না। তাঁর ভাষ্যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান এখন বিএনপির উত্তরসূরি। ১৭ বছর ইংল্যান্ডের কিংস্টনে নির্বাসনে থাকার পর তিনি দেশে ফিরেছেন। শেখ হাসিনার আমলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রূপা হক বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনকে শেখ হাসিনা এক অডিও বার্তায় ‘একতরফা প্রহসন’ বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছেন।
নিবন্ধে রূপা হক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সাংবিধানিক সংস্কারের গণভোটও যুক্ত করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের অনেকে এটিকে ‘হয় সব বা না হয় কিছুই নয়’ ধরনের কঠোর ভোট বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউনূস সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার স্মৃতি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এগুলো দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।
রূপা হক আরও বলেন, তরুণেরাই তথাকথিত ‘বাংলাদেশ–২.০’-এর সূচনা করেছিল। কিন্তু তাদের সংগ্রাম যদি কেবল পুরোনো ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখে, তাহলে তা দুঃখজনক হবে। নতুন গঠিত ছাত্রদল এনসিপি নিয়ে শুরুতে উচ্ছ্বাস ছিল বলেও তিনি লেখেন। তবে তাঁর বক্তব্য, দলটি আশ্চর্যজনকভাবে আগে নিষিদ্ধ থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে।
তিনি লেখেন, কিছুদিন আগে তাঁর কর্মস্থলে এক সহকর্মী বলেন, তিনি প্রবাসী ভোট দিয়েছেন। ২০২৪ সালে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে এটিই প্রথম নির্বাচন। ওই আন্দোলনে শত শত শিক্ষার্থী নিহত হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সহকর্মীর শিকড়ও বাংলাদেশের মাটিতে—এ কথাও লেখেন তিনি।
রূপা হক জানান, তিনি সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কাকে ভোট দিয়েছেন। জবাবে সহকর্মী বলেন, ‘জামায়াত’। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ইসলামপন্থীরা?’ সহকর্মীর যুক্তি ছিল, ‘একবার ওদেরও সুযোগ দিয়ে দেখা যাক।’ তবে রূপা হক বলেন, একজন ব্যক্তির মতামত কখনোই পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট নয়।
রূপা হক স্মরণ করেন, ২০১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তখন তিনি শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গেই দেখা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্যে, শেখ হাসিনা তখন ক্ষমতায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সংসদের ৯০ শতাংশ আসন দখলে রেখেছিল। অন্যদিকে খালেদা জিয়া ছিলেন দুর্বল ও গৃহবন্দী অবস্থায়। বিএনপি আসন্ন নির্বাচন বর্জন করেছিল। অভিযোগ ছিল, ভোটে কারচুপি হবে।
নিবন্ধে তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ছাত্রদের পছন্দের ব্যক্তি, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর মতে, ইউনূস সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই দায়িত্ব নেন।
রূপা হক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে রক্তপাত, সামরিক শাসন, হত্যাকাণ্ড, অভ্যুত্থান এবং সাজানো নির্বাচনের মতো ঘটনা বারবার ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, একটি ধারা স্পষ্ট। যখন যে পক্ষ এগিয়ে থাকে, তারা অন্য পক্ষকে দুর্নীতির অভিযোগে নিষিদ্ধ বা কারাবন্দী করে। এরপর বিরোধীরা ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে। এই চক্রই ঘুরে ফিরে আসে।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে রাজতন্ত্র নেই, বংশগত পদও নেই। তবু রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারকেন্দ্রিক। এই অবস্থা বদলাতে নতুন ও সতেজ শক্তির প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, তরুণদের নেতৃত্বে এটি সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা হয় কি না। নাকি পুরোনো অভ্যাসই আবার জিতে যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬