নিজস্ব প্রতিবেদক
শুধু ভোটের হার দেখে কোনো নির্বাচনকে “অংশগ্রহণমূলক” বলা যায় না এমনটাই মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষণ মিশন। তাদের বক্তব্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে সমাজের সব প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হওয়া। যারা নিজেদের স্বার্থ ও মত প্রকাশ করতে চায়, তাদের জন্য সেই সুযোগ খোলা থাকা।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এই অবস্থান তুলে ধরেন মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণার পর ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ভোটের এই হার দেখিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক জানতে চান, এটি কি সব মত-পথের মানুষের অংশগ্রহণের প্রমাণ।

আইভার্স আইজাবস বলেন, বাংলাদেশে ভোটার উপস্থিতির হার ঐতিহাসিকভাবেই কখনো বেশি, কখনো কম হয়েছে। তাই শুধু শতাংশের অঙ্কে উপস্থিতি মাপলে পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। ইউরোপসহ অনেক গণতান্ত্রিক দেশেও ভোটার উপস্থিতি কমছে। এটিকে তিনি সব গণতন্ত্রের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার কথায়, “সংখ্যাই সব নয়।”
তার ব্যাখ্যা, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিচার করতে হলে দেখতে হবে সমাজের সব প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে কি না। কেউ বাদ পড়ছে কি না। তিনি বলেন, “অংশগ্রহণমূলক মানে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, যারা নিজেদের স্বার্থ প্রকাশ করতে চায়।” তাই কেবল ভোটের হার দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মানদণ্ড ঠিক করা যায় না।
এদিন আরও একটি প্রশ্ন আসে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক। জবাবে আইভার্স আইজাবস বলেন, তারা এখানে এসেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। তাদের আগ্রহ মূলত নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়। তিনি “ট্রানজিশনাল জাস্টিস” বা রূপান্তরমূলক বিচার ব্যবস্থাকে অনেক দেশের জন্য সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন। তবে তার মতে, সামনে এগোনোর একটি পথ হলো নির্বাচন।
ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন “অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক” ছিল। প্রায় দুই হাজার প্রার্থী থাকায় ভোটারদের সামনে পছন্দের সুযোগ ছিল বিস্তৃত। এই অর্থে তিনি এটিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য “অগ্রগতির পথ” বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ছিল না। তাদের প্রতীকও ব্যালট পেপার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬