
লিলি ইসলাম
নতুন সংসদ ভোটে দু’টি ছবি একসঙ্গে সামনে এল। এক দিকে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা কমেছে। অন্য দিকে, কঠিন বাস্তবতার মাঝেও কিছু জয়ী মুখ নতুন আশা দেখাচ্ছেন। ভোটের বাক্স আবারও বোঝাল, পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মানুষ কাজ আর নেতৃত্ব দেখেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ফলাফলে দেখা গেল, ৩০০ আসনের সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে এ বার নির্বাচিত প্রতিনিধি মাত্র ৪ জন। অতীতে এই সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তবু এই চারজনের জয়ের ভিতরেই আছে একটি বড় বার্তা। তাঁরা সকলেই মুসলিম সংখ্যাগুরু আসনে জিতেছেন। অর্থাৎ, শুধু নিজেদের সম্প্রদায়ের ভোট নয়। নানা মতের মানুষ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঢাকায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরায় নিতাই রায়চৌধুরী, রাঙ্গামাটিতে দীপেন দেওয়ান, বান্দরবানে সাচিং প্রু জিতেছেন। সমতলের দু’জন হিন্দু নেতা। পাহাড়ের একজন হিন্দু নেতা। আর একজন উপজাতি মারমা প্রতিনিধি। চারজনের এই উপস্থিতি ছোট সংখ্যা হলেও সংসদে সম্প্রীতির কথা বলার একটি মঞ্চ তৈরি করল।
অন্য দিকে, মহিলা প্রতিনিধিত্বের ছবিটাও নজর কাড়ে। বেসরকারি ফল অনুযায়ী ২৯৭ আসনে জয়ী মহিলা মাত্র ৭ জন। তাঁদের মধ্যে ছ’জনই বিএনপির। একজন স্বতন্ত্র। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদী, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ জিতেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা জয়ী হয়েছেন। এই সাতজনের জয় দেখিয়ে দিল, সুযোগ আর সংগঠিত প্রস্তুতি থাকলে মেয়েরাও লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকেন না। অনেকে তাঁদের ভোটে নামার পথে নানা সামাজিক বাধার কথাও বলেছেন। তবু তাঁরা জিতেছেন। এটা নিজেই একটি শক্ত বার্তা।
দুটি খবর মিলিয়ে যে কথা সবচেয়ে পরিষ্কার, তা হল সুযোগের রাজনীতি। সংখ্যালঘু ও মহিলা প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বাস্তবতা অস্বীকার করার নয়। কিন্তু একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, ভোটাররা কারও ধর্ম বা লিঙ্গের গণ্ডিতে আটকে থাকতে চান না। যোগ্যতা, পরিচিতি, মাঠের কাজ, নেতৃত্বের ভাষা এগুলোও ভোটে জায়গা করে নিচ্ছে। এই জায়গাটাই আশার। এই জায়গাটাই ভবিষ্যতের জন্য পথ দেখায়।
এখন দায়িত্ব আরও বড় হয়ে যায় রাজনৈতিক দলগুলির। বেশি করে সংখ্যালঘু ও মহিলা প্রার্থী দিতে হবে। স্থানীয় স্তরে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রচারের ভাষা বদলাতে হবে। নিরাপত্তা আর সমান অধিকারের প্রতিশ্রুতি শুধু বক্তব্যে নয়, কাজেও দেখাতে হবে। কারণ, এই নির্বাচনে সংখ্যা কম হলেও যে কয়েকটি জয় এসেছে, তারা বলে দিচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা এখনও বেঁচে আছে। সেই সম্ভাবনাকে বড় করাই এখন সবচেয়ে ইতিবাচক করণীয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬