
আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এমন আশার কথা বলেছেন। এটি একটি স্বস্তির বার্তা। কারণ নির্বাচন-পরবর্তী সময় যত ছোট হয়, অনিশ্চয়তা তত কমে। রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকে।
আইন বলে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়। সেই লক্ষ্য ধরে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এমপিদের শপথ শেষ করার প্রস্তুতির কথা এসেছে। এরপর সংসদীয় দল নেতা নির্বাচন করবে। রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার আনুষ্ঠানিক দাবি যাবে। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ হবে। তারপর মন্ত্রিসভার শপথ। এটি সাংবিধানিক শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পথ। এই পথকে দ্রুত ও স্বচ্ছ রাখা জরুরি।
কিন্তু দ্রুততার সঙ্গে সতর্কতাও চাই। দেশে এখন ক্লান্তি আছে। ভোটের পর মানুষের চোখ থাকে নতুন সরকারের দিকে। তারা জানতে চায়, সরকার কী করবে। কীভাবে করবে। কারা করবেন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার হয়, আস্থা তত বাড়ে।
রমজান সামনে। প্রশাসন বলছে, সব প্রস্তুতি আছে। সময় নির্ধারণে রমজানের বাস্তবতা মাথায় রাখা যুক্তিযুক্ত। কারণ রমজানে বাজার, সরবরাহ, নিরাপত্তা, সেবা সবকিছুর ওপর চাপ বাড়ে। নতুন সরকারকে খুব অল্প সময়েই দায়িত্ব নিতে হবে। তাই দায়িত্ব গ্রহণের দিনক্ষণ নিয়ে টালবাহানা কাম্য নয়।
আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকলে এমপিদের শপথ কে পড়াবেন। এটি সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন। এর সমাধান অবশ্যই নিয়ম মেনে হতে হবে। অস্থায়ী ব্যবস্থা হলেও তা যেন বিতর্ক না বাড়ায়। কোনো জায়গায় অস্পষ্টতা থাকলে সংসদ সচিবালয়কে তা দ্রুত প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা দরকার। যাতে মানুষ বুঝতে পারে, প্রক্রিয়া ঠিক পথে আছে।
মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনে হবে। আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা নিয়ে কথাও এসেছে। অনুষ্ঠান বড় হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রত্যাশা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। মানুষের প্রত্যাশা কাজ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ।কর্মসংস্থান। আইনশৃঙ্খলা। বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থাপনা। প্রশাসনে শৃঙ্খলা। সুশাসন।
নতুন মন্ত্রিসভার আকার প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। কিন্তু মানদণ্ড হওয়া উচিত দক্ষতা ও জবাবদিহি। জনগণ এখন নাম দেখে নয়, কাজ দেখে বিচার করে। তাই প্রথম বার্তাই হতে হবে স্পষ্ট। কে কোন দায়িত্ব নেবেন। কোন লক্ষ্য সামনে। কোন সময়সীমায় কী অগ্রগতি হবে।
দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নিয়মের পথই সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। শপথ, সরকার গঠন, মন্ত্রিসভা সবই রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতার অংশ। এই ধারাবাহিকতা যেন কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়ে। তাড়াহুড়ো নয়, দৃঢ়তা চাই। প্রদর্শনী নয়, প্রস্তুতি চাই।
১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ হলে সময়ের ক্ষতি কমবে। কিন্তু আসল পরীক্ষা শুরু হবে শপথের পরদিন থেকে। তখনই বোঝা যাবে, নতুন সরকারের প্রথম সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তববাদী। কতটা জনমুখী। কতটা আস্থাজাগানিয়া।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬