নির্বাচনে এগিয়ে বিএনপি, তবু সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ: তারেক

Date:

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নির্বাচনী প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, এই সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, আগের উৎখাত সরকারের আমলে দেশ লুট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং সেই ক্ষতি কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করাই বড় দায়িত্ব হবে।

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক জানান, বৃহস্পতিবার নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। ২০২৪ সালের যুব নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর থেকে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, তা কমিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “দেশে স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে কাজটি কঠিন। তাঁর বক্তব্য, অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অবহেলা করেছে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি জোটের কাছ থেকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসতে পারে। তবু তারেক দাবি করেন, তাঁর দল বড় ব্যবধানে জনমত পাবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে পরিষ্কার ম্যান্ডেট, বড় ম্যান্ডেট পাব। তিনি জানান, বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে অতিরিক্ত কোনো বড় জোটের প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের নিজেদের সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট আসন থাকবে।”

এএফপি জানায়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ডিসেম্বর মাসে ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যে নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন। তিনি তাঁর মা ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে দলীয় নেতৃত্ব নেন। খালেদা জিয়া ডিসেম্বরেই মারা যান। সাক্ষাৎকারে তারেক বলেন, “ওরা ওরা, আমি আমি।” তিনি যোগ করেন, তিনি রাজনীতিতে দীর্ঘদিন আছেন এবং “তাঁদের চেয়েও ভালো করার চেষ্টা” করবেন।

অর্থনীতি নিয়ে তিনি বলেন, বড় সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। তাঁর ভাষায়, বেকারের সংখ্যা অনেক। তিনি জানান, তরুণদের জন্য কাজ সৃষ্টি করতে ব্যবসা সম্প্রসারণ জরুরি। নারী শ্রমশক্তির পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সবার আগে। তবে আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বাংলাদেশ চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে গোপনে আছেন এবং নভেম্বর মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তারেক দাবি করেন, মেগা প্রকল্প এর নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এতে কয়েকজন খুব ধনী হয়েছে, কিন্তু দেশের বাকি মানুষ কিছুই পায়নি।

তবে তিনি আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করেছে। তারেক বলেন, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত, তবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা তিনি সমর্থন করেন না।

উল্লেখ্য, ১৯ দিনে ৬৪ জনসভায় প্রচারে নতুনত্বের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল নিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

বাচসাসের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট ২০ নভেম্বর

এম.আর.জে শান্ত: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের...

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...