
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা কাটেনি। বরং দাম পূর্বাভাস ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে। পরে আবার হঠাৎ দরপতনও হয়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে তিনটি প্রধান কারণ দেখানো হয়েছে। এবং বলা হয়েছে, তিনটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বর্ণ এখন শুধু গয়না নয়। এটি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার থার্মোমিটার। যুদ্ধ। বাণিজ্য উত্তেজনা। বড় শক্তির নীতির টানাপোড়েন। সব কিছুর চাপ এসে পড়ে স্বর্ণে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে স্বর্ণে যান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণ বাড়ায়। ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতা বাড়ে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা, ডলার সূচকের দুর্বলতা, এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনকে দামের উল্লম্ফনের বড় ব্যাখ্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বাস্তব বার্তা আছে।
প্রথমত। আমরা বৈশ্বিক ঝড়ের বাইরে নই। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে দেশের বাজারে চাপ পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। এরপর দুই দিনে দুই দফায় বড় পতনও হয়েছে। এই ওঠানামা সাধারণ মানুষের জন্য বিপদ। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে। নিম্ন মধ্যবিত্তের জন্য।
দ্বিতীয়ত। বাজার অস্থির হলে গুজব বাড়ে। সিন্ডিকেট তৎপর হয়। অবৈধ মজুতের সুযোগ তৈরি হয়। তখন আসল ক্ষতি হয় ভোক্তার। ব্যবসার স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়।
তৃতীয়ত। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে হবে। আন্তর্জাতিক স্পট প্রাইস। ডলার রেট। শুল্ক কর। মজুরি। সব কিছুর হিসাব জনসম্মুখে পরিষ্কার থাকা দরকার। দিনে দিনে দাম বদলাবে। সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু যুক্তি ছাড়া অস্বাভাবিক লাফ মানুষকে সন্দেহী করে।
এখন করণীয় কী।
এক। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। ডলার দুর্বল হলে স্বর্ণ বাড়ে। ডলার অস্থির হলে স্বর্ণও অস্থির হয়।
দুই। স্বর্ণ আমদানির চেইনে নজরদারি বাড়াতে হবে। বৈধ আমদানি সহজ করা দরকার। অবৈধ চোরাচালান কমাতে হবে। অবৈধ প্রবাহ থাকলে বাজারে কৃত্রিম সংকট হয়। দাম অযৌক্তিক ওঠে।
তিন। ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে সক্রিয় থাকতে হবে। ভরিতে কত দাম। কোন মান। কত ক্যারেট। চার্জ কত। সব তথ্য দোকানে দৃশ্যমান থাকতে হবে।
চার। সাধারণ মানুষেরও সতর্কতা দরকার। হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির সময়ে তড়িঘড়ি কেনা ঠিক নয়। মান যাচাই ছাড়া কেনা ঠিক নয়। রসিদ ছাড়া কেনা ঠিক নয়।
সবচেয়ে বড় কথা হলো। প্রতিবেদন যে ইঙ্গিত দেয়, তা পরিষ্কার। বিশ্বের বড় শক্তির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এখন সরাসরি আমাদের ঘরের বাজারে ঢুকে পড়ছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি। পররাষ্ট্রনীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নিয়ে গুঞ্জন। যুদ্ধের বিস্তার। এসব আমাদের স্বর্ণের দোকানের দামের বোর্ডে প্রতিদিন লেখা হচ্ছে। তাই স্বর্ণকে শুধু অলঙ্কার ভেবে নীতি করা যাবে না। এটিকে অর্থনৈতিক ঝুঁকির সূচক ভেবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
স্বর্ণের বাজার অস্থির থাকবে। সেটিই বাস্তব। কিন্তু দেশের বাজার যেন অযৌক্তিকভাবে অস্থির না হয়। সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসার দায়িত্ব। এবং ভোক্তার অধিকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬