
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট। দুটি বড় আয়োজন একসঙ্গে হওয়ায় দেশের সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মুহূর্ত। এই প্রেক্ষাপটে ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংবাদ। এটি দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের প্রতিফলন। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের আস্থা এবং অংশীদারিত্বের বার্তাও।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও পরিপূর্ণ করে। কারণ নির্বাচন শুধু একটি দিনের ভোট নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। মনোনয়ন। প্রচার। আচরণবিধি। ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা। গণনা। ফল ঘোষণা। সব ধাপেই শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষকরা থাকলে এসব ধাপে ভালো চর্চা আরও দৃশ্যমান হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
এবারের পর্যবেক্ষক দলে রয়েছে ওআইসি। আনফ্রেল। কমনওয়েলথ। আইআরআই। এনডিআই। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি। এই বৈচিত্র্যও আশাব্যঞ্জক। কারণ ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রতিযোগিতা এবং উন্নতির অনুপ্রেরণা জোগায়। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক। গণমাধ্যম। নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণও আরও শক্ত ভিত্তি পায়।
এবার প্রায় ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানানো হয়েছে। বড় সংখ্যার এই অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক পরিসরকে আরও প্রাণবন্ত করে। ভোটারদেরও পছন্দের সুযোগ বাড়ে। মত প্রকাশের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। নির্বাচন কেন্দ্রিক জনসম্পৃক্ততা বাড়লে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির দিকেও নজর আছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই ধরনের সংগঠিত প্রস্তুতি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার পরিচয় দেয়। একই সঙ্গে কমিশনের জন্য এটি একটি প্রেরণা। যাতে ভোটার সেবায় গতি আসে। তথ্য প্রকাশ আরও দ্রুত হয়। অভিযোগ নিষ্পত্তি আরও কার্যকর হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও এটি ইতিবাচক বার্তা। তাদের সামনে সুযোগ আছে শান্তিপূর্ণ ও শালীন প্রচারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের। নির্বাচনী মাঠে সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিযোগিতা তৈরি হলে দেশ লাভবান হয়। জনগণও স্বস্তি পায়। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণতিও আসে।
সবশেষে বলা যায়। ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার খবর আমাদের জন্য এক ধরনের আস্থার জানালা। এটি দেখায়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্ত ভিত্তিতে নিতে চায়। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই সুযোগকে সাফল্যে রূপ দেওয়া। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। সমান সুযোগ। নিয়ম মানা। এবং ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
এই নির্বাচন যদি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরও দৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। উন্নয়ন। বিনিয়োগ। কূটনৈতিক সম্পর্ক। সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আশা করি। এই নির্বাচন আমাদের জন্য একটি নতুন উদাহরণ হয়ে উঠবে। একটি আস্থার নির্বাচন। একটি অংশগ্রহণের নির্বাচন। একটি অগ্রগতির নির্বাচন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬