
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের বদরগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মমতাজুর রহমান নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে গভীর রাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর ব্যবহৃত হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশের হেফাজত থেকে কীভাবে একজন আটক ব্যক্তি হাতকড়াসহ পালিয়ে গেলেন, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মমতাজুর রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর কাছ থেকে মাদক কিনে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণদের একটি অংশ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মমতাজুর রহমানকে আটক করে। এ সময় তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। পরে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তিনি। ঘটনার পরপরই তাঁকে ধরতে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। রাতভর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে রোববার বিকেলে মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ ও গোলাম মোস্তফা বলেন, মমতাজুর রহমান এলাকায় পরিচিত মুখ। তিনি একসময় গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে সংকোচ বোধ করতেন। এ বিষয়ে আগে বদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।স্থানীয়দের ভাষ্য, ডিবি পুলিশের হাতে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁরা এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধ হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু আটকের পর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সেই আশায় ভাটা পড়ে। তাঁদের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মমতাজুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আজিজুল হক বলেন, “কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অন্য কোনো অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হওয়া উচিত। দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসান বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে মমতাজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে।”
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। পরে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয় এবং রোববার বিকেলে ডিবি পুলিশ তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মাদকের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কেউ মাদক বিক্রি বা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। নিউজ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬