বিশেষ প্রতিনিধি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে তিতাসের পাঙ্গাশিয়ায় হরিদাস আশ্রমে প্রথমবার উদযাপিত হচ্ছে দুর্গাপূজা।
সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার তিতাস উপজেলাতেও অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর তিতাস উপজেলার মোট ১৭টি আলাদা পূজা মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন ও ভক্তদের আরাধনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আগমন ও প্রার্থনায় মুখরিত হলেও এবারের দুর্গাপূজায় বিশেষ নজর কেড়েছে ৩নং বলরামপুর ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া শ্রী শ্রী হরিদাস গোস্বামী আশ্রমের পূজা। ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আশ্রমে এবারই প্রথমবারের মতো বেশ গুরুত্ব ও ধর্মীয় জাঁকজমকতার সঙ্গে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উকিল চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সনজিত চন্দ্র দাস।
পাঙ্গাশিয়া গ্রামের শ্রী শ্রী হরিদাস গোস্বামী বাবার আশ্রমটি তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের একটি অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থান। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে কালের আবর্তে এটি অবহেলার শিকার হয়েছে। জীর্ণশীর্ষ দশা সত্ত্বেও মন্দির কমিটির উদ্যোগে এবার প্রথমবারের মতো এখানে শারদীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় ভক্তদের মাঝে তৈরি করেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
পূজা মণ্ডপ ও আশ্রমটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাদক সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, শ্রী শ্রী হরিদাস গোস্বামী বাবার আশ্রমটি আমাদের এলাকার অত্যন্ত পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির। কিন্তু দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যার কারণে মন্দিরটি বেশ অবহেলায় পড়ে আছে। দুঃখের বিষয়, আজ পর্যন্ত এই মন্দিরে সরকারি কোনো অনুদান পৌঁছায়নি। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা ও অনুদান পেলে মন্দিরটি সংস্কার করে আরও সুন্দর ও মনমুগ্ধকর পরিবেশে রূপ দেওয়া সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, আশ্রমের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং ভক্তদের আরাধনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।এ বছর তিতাসের ১৭টি পূজামণ্ডপেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশা, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার হাত বাড়ালে পাঙ্গাশিয়া শ্রী শ্রী হরিদাস গোস্বামী আশ্রমটি আগামী দিনে এ অঞ্চলের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় উপাসনালয়ে পরিণত হবে।
হরিদাস গোস্বামী আশ্রমের ভক্তবৃন্দের পক্ষে যারা অর্ভ্যথনা জানান তারা হলেন, সভাপতি শ্রী উপেন্দ্র চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক শ্রী সঞ্জিত চন্দ্র দাস, শ্রী হোরন চন্দ্র দাস, শ্রী স্বপন চন্দ্র দাস, শ্রী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস, শ্রী শ্রীদাম চন্দ্র দাস, শ্রী গৌরচান চন্দ্র দাস, শ্রী রাজিব চন্দ্র দাস, শ্রী নির্মল চন্দ্র দাস, শ্রী প্রদীপ চন্দ্র দাস, শ্রী তপন চন্দ্র দাস, শ্রী হৃদয় চন্দ্র দাস, শ্রী মনোরঞ্জন চন্দ্র দাস, শ্রী পলাশ চন্দ্র দাস, শ্রী অর্জুন চন্দ্র দাস, শ্রী সাগর চন্দ্র দাস, শ্রী বিজয় চন্দ্র দাস, শ্রী দীপ্ত চন্দ্র দাস, শ্রী আকাশ চন্দ্র দাস, শ্রী সজিব চন্দ্র দাস, শ্রী নিলয় চন্দ্র দাস, শ্রী দুর্জয় চন্দ্র দাস, শ্রী শ্রীকান্ত চন্দ্র দাস প্রমূখ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। নিউজ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬