আল জাজিরা অবলম্বনে মুখপাত্র ডেস্ক
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা যত এগোচ্ছে, ততই ছায়ার মতো লেগে থাকছে ভয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে অন্তত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। এতে বহু মানুষের মনে আবারও নির্বাচনী সহিংসতার পুরোনো স্মৃতি জেগে উঠছে।
আল জাজিরা জানায়, বিএনপি কর্মী আজিজুর রহমান মুসাব্বির ৭ জানুয়ারি গুলিতে নিহত হওয়ার খবর শোনার পর ঢাকার এক ছাত্রদল নেতা কাজী শাওন আলম বলেন, পুলিশের দাবি যাই হোক, ভয় সহজে যায় না। শাওনের ভাষায়, “পুলিশ বলছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু ভয় তো মিলিয়ে যায় না।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড, হুমকি এবং সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে কেরানীগঞ্জের বিএনপি নেতা হাসান মোল্লার ঘটনা। তিনি ২৩ জানুয়ারি নির্বাচনী অফিসে বসে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন হাসপাতালে মারা যান। তিনিই নাকি তফসিল ঘোষণার পর নিহত হওয়া ১৬তম রাজনৈতিক কর্মী।
আল জাজিরা বলছে, এই সহিংসতার বড় চালিকাশক্তি হতে পারে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার। সরকারি তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে লুট হওয়া ৩৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১৩৬০টি এখনো উদ্ধার হয়নি।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস এর হিসাব অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে অন্তত ৬২টি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংঘর্ষ ঘটেছে।
ঢাকার মিরপুরে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী কর্মীদের সংঘর্ষের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ওই এলাকার এক বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন আল জাজিরাকে বলেন, “সাধারণ ভোটারদের জন্য এটা সত্যিই ভয়ের পরিস্থিতি। আমরা সংঘাত চাই না। আমরা শান্তিতে ভোট দিতে চাই।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বড় আকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য ১ লাখ ৮ হাজার ৭৩০ জন। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, সেগুলোর অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনের সারকথা একটাই। বহু বছর পর নির্বাচন যেন আবার উৎসবের মতো লাগছে। কিন্তু সেই উৎসবের ভিড়েই বাড়ছে মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি। পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবু মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন কি ভোটাররা সত্যিই ভয় কাটিয়ে নিশ্চিন্তে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬