
মুখপাত্র ডেস্ক
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করেছে। এরপরই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পাকিস্তান। কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রকাশ্যে আপত্তি তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে নকভি সামাজিক মাধ্যমে জানান, বৈঠকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসা করতে হবে। একই সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রাখতে হবে। নকভি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার অথবা পরের সোমবার।
বৈঠকে মূলত তিনটি দিক গুরুত্ব পায়। এক. পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট খেলবে কি না। দুই. খেললেও ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ খেলবে কি না। তিন. বাংলাদেশের পক্ষে কীভাবে অবস্থান নেওয়া যায়, যাতে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া বার্তা দুটোই যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশকে সামনে রেখে বোর্ড এমন একটি অবস্থান বিবেচনা করছে, যাতে তারা ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি না খেললেও আইসিসির সরাসরি শাস্তি বা আর্থিক জরিমানার ধাক্কা এড়াতে পারে। সেখানে ডন পত্রিকার সূত্রের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বোর্ড মনে করছে সরকার নির্দেশ দিলে সেটিকে বোর্ডের সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা কঠিন হবে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নকভি প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর ভাল মন্দ দিকও ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে আইসিসি শাস্তির ঝুঁকি বড়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত হতে পারে। পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য অনাপত্তিপত্র বন্ধ হতে পারে। এশিয়া কাপে অংশগ্রহণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন করে একটি জানালা খোলা থাকে। হিন্দুস্তান টাইমসের আপডেট অনুযায়ী, পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে আইসিসি বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে প্রস্তুত রাখছে। পরিকল্পনা হচ্ছে, বাংলাদেশকে গ্রুপে এনে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলানো। কারণ এতে বড় ধরনের লজিস্টিক সমস্যা তুলনামূলক কম হবে।
বাংলাদেশের দিক থেকে ছবিটা তাই জটিল। একদিকে দল ইতোমধ্যে বাদ পড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ইস্যু টিকে থাকায় আবারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ফেরা নির্ভর করছে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা সোমবার আসতে পারে বলে নকভি জানিয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসের আরেক আপডেটে সিদ্ধান্তের সময়সীমা ২ ফেব্রুয়ারির দিকেও গড়াতে পারে বলে উল্লেখ আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬