
বিবিসি এবং বাজার বিশ্লেষণ অবলম্বনে
এম নুরুন্নবী সোহেল
বিশ্ববাজারে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫০০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৫- সালে আরও গতি পায়। সেবার স্বর্ণের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্বর্ণ আবার নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বাংলাদেশে ভরি হিসেবে দাম বাড়ার প্রতিফলন
বাংলাদেশে স্বর্ণ সাধারণত ভরি হিসেবে বিক্রি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা। স্থানীয় হিসাবে প্রতি ২.৪৩ ভরি স্বর্ণ সমান এক আউন্স—ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্সপ্রতি দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব দ্রুত পড়ে।
কেন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেন। যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি—এসব কারণে অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল মার্কিন ডলার, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় অঙ্কে স্বর্ণ কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের দামের উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
“বিক্রি সময়েও যেন ন্যায্য দাম পাই”—ক্রেতাদের প্রত্যাশা
স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ বলা হলেও স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের বড় ভাবনা থাকে কেনার পর বিক্রির সময় মূল্যায়ন নিয়ে। রাজধানীর এক ক্রেতা বলেন, “স্বর্ণ কিনলে শুধু সৌন্দর্য নয়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তাও দেখি। কিন্তু বিক্রির সময় যেন কম কেটে না রাখে—এই নিশ্চয়তা থাকাটা খুব জরুরি।” আরেক ক্রেতার ভাষ্য, “অনেক জায়গায় কেনার সময় তো সব ভালো, পরে বিক্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে দাম কমায়। আমরা চাই এমন প্রতিষ্ঠান, যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছ থাকবে।”
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড-এর ‘বিশ্বাস’কে গুরুত্ব দেন ক্রেতারা
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে একাধিক ক্রেতা জানান, ব্র্যান্ডটি দীর্ঘদিন ধরে বাজারে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে বলেই তারা আস্থা রাখেন। একজন নিয়মিত ক্রেতা বলেন, “আমি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড থেকে নিলে নিশ্চিন্ত থাকি—হীরা বা স্বর্ণের অলংকার হোক কিংবা বার গোল্ড—মূল্য হিসেবে সর্বোচ্চ ফেরত দেয় বলেই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছে।” আরেকজন যোগ করেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা যে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে, সেটাই আমাদের মতো ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা।”
বাজার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই উত্থান “খবরনির্ভর”ও—অর্থাৎ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এলে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখীও হতে পারে। তবে অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণের সীমিত প্রাপ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যধারণ ক্ষমতার কারণে এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় সম্পদ হিসেবেই থাকে।
ঝুঁকির সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন রেকর্ডকে অনেকে অনিশ্চয়তার যুগে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ সম্পদের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিনিয়োগকারীরা যেমন স্বর্ণকে ঝুঁকি কমানোর মাধ্যম মনে করছেন, তেমনি সাধারণ ক্রেতারাও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে স্বর্ণ কেনাকে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬