
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
নাভি পিল্লে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা বিশ্বজুড়ে আলোচিত।
এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসন থেকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায় জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংগঠনটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
২০২৩ সালে এ পুরস্কার পান ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি। নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানিত করা হয়। ২০২২ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিলিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।
এর আগে ২০২১ সালে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি তিনবার—১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে—এ সম্মাননা পেয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে দুইবার নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করে।





