
খুলনা ব্যুরো
মোবাইল ফোন কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডাকাতি মামলায় নির্দোষ ভ্যানচালক মো. শিমুল হাওলাদারকে আসামি করে কারাগারে পাঠানো এবং তার পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও শিমুলের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শিমুল হাওলাদারের ভাই মো. লতিফ হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লতিফ হাওলাদার বলেন, তার ভাই শিমুল হাওলাদার ইট-বালুর গোলা থেকে ভ্যানে করে মালামাল পরিবহনের কাজ করেন। তারা দরিদ্র ও অসহায় পরিবার। কিছুদিন আগে খুলনার বাগমারা সবেদা তলা এলাকার বাসিন্দা মিরাজ নামের এক ব্যক্তি একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন বিক্রির জন্য শিমুলের কাছে নিয়ে আসেন। দরদাম করে ৩ হাজার টাকায় মোবাইলটি কিনে নেন শিমুল। ছেলের ব্যবহারের জন্য মোবাইলটি কেনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
লতিফের অভিযোগ, মোবাইল কেনার কিছুদিন পর র্যাব-৬ থেকে ফোন করে শিমুলকে দেখা করতে বলা হয়। বিষয়টি বুঝতে না পেরে এবং ভয়ে তিনি সেখানে যাননি। পরে গত ১৯ আগস্ট র্যাব সদস্যরা তাদের বাড়িতে গিয়ে শিমুলকে আটক করেন এবং তার কাছ থেকে ওই মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন লতিফ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিমুল র্যাবকে জানান, তিনি মোবাইলটি ৩ হাজার টাকায় মিরাজের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু তার বক্তব্য আমলে না নিয়ে তাকে প্রথমে হরিণটানা থানায় নেওয়া হয়। পরে পিরোজপুর থেকে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায় এবং একটি ডাকাতি মামলায় এক নম্বর আসামি করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
লতিফ হাওলাদার আরও বলেন, পরে তারা পুলিশের কাছে মোবাইল বিক্রেতা মিরাজের নাম, ঠিকানা ও ছবি দেন। কিন্তু পুলিশ তাকে আটক না করে পরিবারের সদস্যদেরই তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসতে বলে। তাদের পক্ষে একজনকে ধরে আনা সম্ভব নয় জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, পিরোজপুরের ব্রাহ্মণকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মিকচান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে গত ২৮ আগস্ট রাত ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্যান্য মালামালের সঙ্গে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় ডাকাতরা। পরবর্তীতে সেই মোবাইলটি কীভাবে খুলনার মিরাজের কাছে আসে এবং মিরাজ কীভাবে সেটি শিমুলের কাছে বিক্রি করেন—এ বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, শিমুলকে ডাকাতির মামলায় প্রধান আসামি করা হলেও প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। তিনি শুধু একটি পুরোনো মোবাইল কিনেছিলেন। এ কারণে সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং শিমুলকে হয়রানি থেকে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মো. লতিফ হাওলাদার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, শিমুল তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি কারাগারে থাকায় তার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। নিউজ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬