ভারতের রাজপথে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বর

Date:

spot_img

আলী কদর পলাশ

দিল্লির রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেডটি খুব উঁচু নয়। কিন্তু রাজনীতিতে কোনো কোনো ব্যারিকেডের উচ্চতা মাপা যায় না।

হালকা হলুদ রঙের ফুলেল পোশাক। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। চারদিকে পুলিশ, ক্যামেরা আর স্লোগানের শব্দ। সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এক তরুণী। সামনে পুলিশের বাধা। পেছনে আন্দোলনকারীদের ভিড়। উত্তেজনার মধ্যেও তাঁর চোখেমুখে দৃঢ়তা।

তরুণীর নাম নেহা বোরা।

কয়েক মাস আগেও ভারতের জাতীয় রাজনীতির সাধারণ দর্শকের কাছে নামটি তেমন পরিচিত ছিল না। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই তাঁর ছবি। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর মুখ। আন্দোলনের মিছিলে তাঁর স্লোগান। কখনো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, কখনো আটক, কখনো প্রতিবাদী জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য।

একটি আন্দোলন যেন ধীরে ধীরে একটি মুখ খুঁজে পেয়েছে।

ভারতের রাজনীতিতে নতুন মুখের অভাব নেই। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মিছিল করেন, স্লোগান দেন, পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের অনেকেই পরদিন সংবাদপত্রের পাতা থেকে হারিয়ে যান। কিন্তু কোনো কোনো মুখ থেকে যায়। কারণ সেই মুখের সঙ্গে একটি সময়ের ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িয়ে পড়ে।

নেহা বোরা তেমনই একটি আলোচিত মুখ হয়ে উঠছেন।

নেহা অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত গণ্ডি থেকে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

এই উত্থান অবশ্য এক দিনের নয়।

শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৩ দিন অনশন করেছিলেন নেহা। তখন তাঁর প্রতিবাদের ভাষা ছিল অনশন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে অবস্থান করে তিনি নিজের দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। সেই অনশন তাঁকে ছাত্ররাজনীতির পরিচিত পরিসরের বাইরে নিয়ে যায়।

এবার তিনি সামনে এসেছেন ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভে পুলিশ যখন পথ আটকাল, নেহা তখন ব্যারিকেড পেরোনোর চেষ্টা করলেন। তাঁকে আটকও করা হলো। কিন্তু আটকের ছবিই তাঁকে আরও দৃশ্যমান করে তুলল।

রাজনীতিতে এমন ঘটনা নতুন নয়। ক্ষমতা কখনো কখনো যাকে সরিয়ে দিতে চায়, ক্যামেরা তাকেই আরও বড় করে দেখায়।

আর এখানেই নেহার গল্পটি শুধু একজন ছাত্রনেত্রীর গল্প থাকে না।

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে অসংখ্য বৈধ ভোটার বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, ভোটার তালিকা নির্ভুল করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।

অর্থাৎ ব্যারিকেডের দুই পাশে দুটি রাজনৈতিক ভাষ্য।

একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলছেন, সেই নিয়মের প্রয়োগে নাগরিকের ভোটাধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকছে।

এই বিতর্কের নিষ্পত্তি রাজপথের স্লোগানে সম্ভব নয়। প্রয়োজন তথ্য, স্বচ্ছতা, আইনি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকের প্রশ্ন তোলার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সেই প্রশ্নকে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে দেখা যায় না।

ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেশি।

কারণ ভোট শুধু একটি কাগজে সিল দেওয়ার অধিকার নয়। ভোটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নাগরিকের রাজনৈতিক অস্তিত্ব। ভোটার তালিকায় নিজের নাম থাকা মানে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া। সেই তালিকার নির্ভুলতা যেমন জরুরি, তেমনি বৈধ ভোটারের নাম বাদ না পড়াও জরুরি।

এই দুই দায়িত্বের মাঝখানে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নেহাদের আন্দোলন সেই আস্থার প্রশ্নটিকেই রাজপথে নিয়ে এসেছে।

তবে নেহার উত্থানের গল্পে শুধু ভোটার তালিকা কিংবা নির্বাচন কমিশন নেই। আছে ভারতের রাজনীতির আরেকটি অস্বস্তিকর চেহারা।

পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তির ভিডিও কেটে, ধীরগতিতে চালিয়ে এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। বহু ভারতীয় সেই প্রচারের প্রতিবাদ করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নারী রাজনৈতিক কর্মীর বক্তব্যের জবাব না দিয়ে তাঁর শরীরকে কেন আক্রমণের অস্ত্র বানানো হবে?

এই জায়গাটিই সম্ভবত নেহার গল্পকে আরও বড় করে দিয়েছে।

তাঁর রাজনীতির সঙ্গে দ্বিমত করা যায়। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করা যায়। তিনি যে বামপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটিও ভারতের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি বিজেপি, আরএসএস, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগও রাজনৈতিক যাচাই ও পাল্টা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

কিন্তু তাঁকে থামানোর জন্য কুরুচি ব্যবহার করা হলে লাভটি শেষ পর্যন্ত কার হয়?

সম্ভবত নেহারই।

কারণ তখন আলোচনার কেন্দ্র থেকে তাঁর রাজনীতি সরে যায়, সামনে আসে তাঁর বিরুদ্ধে আচরণ। একজন ছাত্রনেত্রী হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের প্রতীক।

এখানে একটি পুরোনো রাজনৈতিক সত্য আবার সামনে আসে। কোনো মানুষের বক্তব্যের বিরোধিতা করা আর সেই মানুষটিকে অপমান করা এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তির বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ব্যবহার করা হলে বিতর্কের মান কমে যায়। আর নারী রাজনৈতিক কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই আক্রমণ যখন তাঁদের পোশাক, শরীর কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে হয়, তখন তা বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার পরিচয় দেয়।

নেহার ঘটনাটি সেই সমস্যারই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ।

ভারতের রাজনীতিতে এরই মধ্যে বড় বিরোধী দলগুলো একই ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছে। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদেরও আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

অর্থাৎ নেহা কোনো একক আন্দোলনের একক নায়িকা নন। তিনি একটি বড় রাজনৈতিক স্রোতের দৃশ্যমান তরুণ মুখ মাত্র।

এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।

কারণ একটি আন্দোলনের ইতিহাস শুধু তার সবচেয়ে পরিচিত মুখ দিয়ে লেখা যায় না। সেখানে অসংখ্য অচেনা মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। কেউ মিছিলের সামনে হাঁটেন, কেউ পেছনে স্লোগান দেন। কেউ আটক হন, কেউ আহত হন। আবার কেউ কোনো ছবিতেই থাকেন না। অথচ তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতিই একটি আন্দোলনকে শক্তি দেয়।

নেহার পরিচিতি সেই সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে।

তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার আরেকটি দিকও লক্ষ করার মতো। তিনি এমন একটি প্রজন্মের প্রতিনিধি, যাদের কাছে রাজপথ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আলাদা দুটি জগৎ নয়। রাজপথের একটি ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোনের পর্দায় পৌঁছে যায়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও হাজার হাজার মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

একসময় রাজনৈতিক নেতার পরিচিতি তৈরি হতো দীর্ঘ বক্তৃতা, সভা, মিছিল এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে। এখন একটি স্থিরচিত্র কিংবা ছোট ভিডিওও সেই পরিচিতি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কিন্তু এখানেই রয়েছে নতুন বিপদ।

ক্যামেরা ঘটনার একটি অংশ দেখায়। পুরো ঘটনা নয়। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে উত্তেজনা দেখা যায়, কিন্তু তার পেছনের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক সময় হারিয়ে যায়। দর্শক তখন আন্দোলনের দাবি জানার আগেই আন্দোলনকারীর মুখ চিনে ফেলেন।

নেহার ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক।

তাঁর ব্যারিকেড পেরোনোর ছবিটি বহু মানুষের নজর কেড়েছে। কিন্তু ছবির বাইরেও রয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বিরোধীদের অভিযোগ এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান।

এসব না জেনে শুধু একটি ছবির ভিত্তিতে নেহাকে বিচার করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি একটি ভাইরাল ভিডিও দেখে তাঁকে ভবিষ্যতের বড় নেতা ঘোষণা করাও তাড়াহুড়া হবে।

ভাইরাল ভিডিও নেতা বানাতে পারে না। ব্যারিকেডের একটি ছবি ইতিহাসও বানায় না। ইতিহাস দেখতে চায় সেই মানুষটি ব্যারিকেড থেকে নেমে যাওয়ার পর কোথায় দাঁড়ালেন।

এই জায়গায় নেহার সামনে কঠিন পরীক্ষা।

প্রতিবাদ করা এক ধরনের রাজনৈতিক কাজ। কিন্তু সেই প্রতিবাদকে দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত শক্তিতে রূপ দেওয়া ভিন্ন বিষয়। সেখানে প্রয়োজন মানুষের আস্থা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ধারাবাহিকতা এবং নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সক্ষমতা।

ভারতের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসার নজির কম নয়। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা অরুণ জেটলি একসময় দেশের অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। পাটনার ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছেন লালু প্রসাদ যাদব। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি, যিনি পরে ভারতের বাম রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেতা হন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারও জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে সবাই সমান রাজনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছাননি। কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছেন, কেউ বিরোধী রাজনীতিতে থেকেছেন। ফলে নেহা বোরার সামনে ইতিহাসের উদাহরণ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ অতিক্রমের পরীক্ষা।

কিন্তু তাঁর ছবিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।

গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তি শুধু পুলিশের ব্যারিকেডে নয়। রাষ্ট্রের শক্তি তার প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থায়। সেই আস্থা বজায় রাখতে হলে নাগরিকের প্রশ্ন শোনার প্রয়োজন হয়। আবার আন্দোলনকারীদেরও দায়িত্ব থাকে নিজেদের দাবি তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করার।

এই দুইয়ের সম্পর্ক যত দুর্বল হয়, রাজপথে উত্তেজনা তত বাড়ে।

নেহার আন্দোলনকে তাই শুধু একজন ছাত্রনেত্রীর ব্যক্তিগত সাহস কিংবা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি দেখা হবে না। এর ভেতরে রয়েছে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ছাত্ররাজনীতি, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।

এসব প্রশ্নের সব উত্তর নেহার কাছে নেই। থাকার কথাও নয়।

তবু তাঁর উপস্থিতি আলোচনার একটি দরজা খুলেছে।

দিল্লির সেই ছবিটির দিকে আরেকবার তাকানো যাক।

হলুদ ব্যারিকেড। পুলিশের বাধা। পেছনে আন্দোলনকারীদের ভিড়। মাঝখানে চশমা পরা এক তরুণী, যিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ছবিটি হয়তো কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন কোনো আলোচনার নিচে চাপা পড়ে যাবে। নতুন কোনো ঘটনা সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করবে। নতুন কোনো মুখ সামনে আসবে।

কিন্তু ছবিটির পেছনের প্রশ্নগুলো এত সহজে হারিয়ে যাওয়ার নয়।

একজন নাগরিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কতটা প্রশ্ন তুলতে পারেন? রাজনৈতিক প্রতিবাদের জবাব কীভাবে দেওয়া উচিত? একজন নারী আন্দোলনকারীর বক্তব্যকে কি তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে আলাদা করে বিচার করা সম্ভব? আর তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে?

নেহা বোরা এখন এসব প্রশ্নের আলোচনায় উঠে আসা একটি নাম।

তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস আছে। বিরোধিতাও আছে। রাজনৈতিক বিতর্ক আছে। আছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরঞ্জনও।

এসবের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হচ্ছে।

দিল্লির রাস্তায় পুলিশের ব্যারিকেড পেরোনোর চেষ্টা করছেন এক তরুণী।

ভারতের পুরোনো রাজনীতির সামনে নতুন প্রজন্মের একটি প্রশ্নের মতো।

নেহা বোরা কি কেবল এই সময়ের ভাইরাল মুখ, নাকি ভারত সত্যিই আরেকজন নতুন ছাত্রনেতার জন্ম দেখছে?

উত্তরটি ব্যারিকেডের ওপরে নয়। পাওয়া যাবে সামনের দিনের রাজনীতিতে।

spot_img

Share post:

ইপেপার

জনপ্রিয়

More like this
Related

কমিশনার মামুনের পিতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বংশাল থানা...

আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

বাগেরহাট প্রতিনিধি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন...

খুলনায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেসিসির অভিযান, ভাঙা হলো অবৈধ দোকানপাট

খুলনা প্রতিনিধি খুলনা নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ...

হোমনায় কৃষিজমি থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, দুই ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা!

বিশেষ প্রতিনিধি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাকান্দি এলাকায়...