
মুখপাত্র ডেস্ক
রাশিয়ার একটি রহস্যময় স্বল্পদৈর্ঘ্য বেতারতরঙ্গ আবার নতুন করে শিরোনামে। প্রায় ৫৫ বছর ধরে একই রকম যান্ত্রিক গুঞ্জনধ্বনি—যে শব্দকে ঘিরে রেডিয়ো-অনুরাগীদের একাংশ ‘ডুমসডে রেডিয়ো’ বা ‘দ্য বাজ়ার’ বলে ডাকেন—সেই তরঙ্গেই সম্প্রতি গুঞ্জনের ফাঁক গলে ভেসে এসেছে একের পর এক সাঙ্কেতিক শব্দ, সংখ্যা ও নাম। আর তাতেই নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা—এ কি নিছক সামরিক যোগাযোগের অনুশীলন, না কি বড় কোনও সংঘাতের পূর্বাভাস?
এই রহস্যময় স্টেশনটির পরিচিত নাম ইউভিবি-৭৬ (UVB-76)। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকে রাশিয়ার বুকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এই স্টেশন সাধারণত একঘেয়ে যান্ত্রিক বাজ়-ধ্বনি সম্প্রচার করে—প্রতি মিনিটে বহুবার পুনরাবৃত্তি হয় সেই শব্দ। কিন্তু সময় সময় সেই একঘেয়ে গুঞ্জন ভেদ করে ভেসে আসে রুশ উচ্চারণে অদ্ভুত সব শব্দবন্ধ কিংবা আলফানিউমেরিক কোড। সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে রহস্যের আস্তরণ—কারা চালায় এই স্টেশন, কাদের উদ্দেশে বার্তা যায়, আর এই কোডের মানে কী—তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা নেই।
সম্প্রতি এই গুঞ্জনের মধ্যে বার্তা পাঠানোর প্রবণতা যে বেড়েছে, এমনটাই দাবি করেছেন বেতারতরঙ্গ পর্যবেক্ষকেরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর মস্কোর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে একাধিক খণ্ডে বার্তা ভেসে আসে। সেখানে কয়েকটি সাঙ্কেতিক শব্দের পাশাপাশি ‘লাটভিয়া’ শব্দটিও ডিকোড করা হয়েছে বলে দাবি। আর ওই একটি শব্দই ইউরোপ-আমেরিকার উদ্বেগ বাড়িয়েছে—কারণ লাটভিয়া নেটো-ভুক্ত দেশ। ফলে দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ঘিরে যে কোনও উত্তেজনা, বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাকে উসকে দিতে পারে—এমনই ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের।
তবে ‘লাটভিয়া’ শব্দটি শোনা গেলেই যে আক্রমণের প্রস্তুতি—তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো তথ্য সামনে নেই। বরং বিষয়টি আরও জটিল। বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, এই ধরনের শর্টওয়েভ স্টেশন কখনও কখনও জরুরি সামরিক যোগাযোগের জন্য ‘সক্রিয় রেখে দেওয়া’ হয়—যাতে প্রয়োজনের সময় নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা যায়, কিংবা জরুরি অবস্থায় দ্রুত নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এমন ধারণাও আছে, সামরিক অবরোধ বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প হিসেবে এ ধরনের তরঙ্গ কার্যকর হতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে রাশিয়ার ‘পেরিমিটার’ বা প্রতিশোধমূলক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জুড়ে দেখেন। তবে এসবই মূলত জল্পনা; কোডগুলোর প্রকৃত অর্থ জনসমক্ষে কখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
রহস্যের আবহ আরও ঘনিয়েছে আরেক ঘটনায়। প্রতিবেদনে দাবি, এক পর্যায়ে এই স্টেশনে ‘সোয়ান লেক’ সহ কয়েকটি গানের ট্র্যাক বাজতে শোনা গেছে—যা অত্যন্ত বিরল। রাশিয়ায় অতীতে রাজনৈতিক সঙ্কটের সময়ে ‘সোয়ান লেক’ বাজানোর স্মৃতি মাথায় রেখেই কেউ কেউ এটিকে ‘খারাপ কিছুর ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। যদিও এই ব্যাখ্যারও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
সব মিলিয়ে, ইউভিবি-৭৬ আবার ভয়-জাগানো আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে যুদ্ধকালীন বাস্তবতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ, অন্যদিকে রহস্যময় বেতারতরঙ্গে ভেসে আসা অজানা কোড—এই দুই মিলেই নানা দেশে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় একটাই: ‘ডুমসডে রেডিয়ো’ যতক্ষণ নীরব না হয়, ততক্ষণ তার গুঞ্জনের ফাঁক গলে ওঠা প্রতিটি শব্দই নতুন করে প্রশ্ন তুলবে—এটা কি নিছক ছায়াযুদ্ধের বার্তা, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন?
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬