
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের উচ্চ সুদের হার দীর্ঘ সময় বজায় থাকার সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। সাপ্তাহিক হিসাবে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে ২ শতাংশেরও বেশি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্যের বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। চলতি সপ্তাহে স্পট স্বর্ণের দাম সার্বিকভাবে ২ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৫ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে। এতে স্বর্ণের ওপর বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
ওএএনডিএর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বাজারের নজর এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতির দিকে। ফেড দীর্ঘ সময় কঠোর বা উচ্চ সুদের নীতি বজায় রাখলে মার্কিন ডলার আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা স্বর্ণের দামের জন্য নেতিবাচক চাপ তৈরি করবে।
গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পর নীতিনির্ধারকেরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে আরও এক দফা সুদ বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে বন্ডের মতো সুদ বা মুনাফা প্রদানকারী সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের চাহিদায় চাপ তৈরি হয়।
তবে জে. রোটবার্ট অ্যান্ড কোংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া রোটবার্ট মনে করেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ঋণ সংকটের কারণে বছরের বাকি সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় থাকতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৫৯ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪৬ দশমিক ৩৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৯ দশমিক ৭১ ডলারে নেমেছে। এসব ধাতুও সাপ্তাহিক হিসাবে দরপতনের মধ্যে রয়েছে।





