গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তৃব্যরত ডাক্তার ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবাং দোষীদের অভিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেছে হাসপাতালের চিকিৎসক, শিক্ষার্থীরা।
রোজ- ( শনিবার) দুপুর ১২ থেকে ১ টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে রাস্তায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাজহারুল আলম।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- শহীদ তাজউদ্দীনর আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জুবাইদা সুলতানা, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম, জেলা ড্যাবের যুগ্ম আহবায়ক ডা. শাহজাহান সিরাজ, আরএমও ডা. ফরহাদ, ড্যাব নেতা ডা. এনামুল হক, ডা. খায়রুজ্জামান, ডা. আবু বকর সিদ্দিক, ডা. কামরুল করিম, ডা. নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।
চিকিৎসক নেতারা বলেন- গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে জনৈক আব্দুল হালিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি স্ট্রোক জনিত সমস্যায় হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীর লোকজন রোগী আব্দুল হালিমকে বাইরে থেকে সিটিস্ক্যান করে রোগীকেসহ রিপোর্ট হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে নিয়ে আসে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার একই রাত ৮টার দিকে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রোগীর লোকজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রোগীর লোকজন রোগীকে নিউরোসাইন্স হাসপাতালে উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এদিকে রাত পৌনে ১১টার দিকে রোগীকে পুনরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক মাহমুদা রানী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষণা করার পর রোগীর স্বজন সৈকত (২৫) ও তার ৭-৮ জন সহযোগী জরুরী বিভাগেরর মেডিসিন ট্রলি ভাংচুর করে সরকারী ঔষধপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। হামলাকারীরা ডা. মাহমুদা রানীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে মারধর করে। এসময় সৈকত লোহার চেয়ার দিয়ে ডা. মাহমুদা রানীকে আঘাত করতে গেলে হাসপাতালের কর্মরত আনসার কমান্ডার গোলাম মোস্তাফা তা ফিরালে গেলে সেই আঘাতে তার ডান কাঁধে লেগে হাড় ভেঙ্গে যায়। এসময় ওই যুবকরা আনসার কমান্ডারকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে। পরে অন্যান্য রোগীর স্বজনরা চিকিৎসক ও আনসার সদস্যকে উদ্ধার করে।
এদিকে ডাক্তার ও আনসারের উপর হামলার ঘটনায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইনচার্জ মো. আশাদুজ্জামান মন্ডল বাদি হয়ে সদর মেট্রো থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সৈকত (২৫) নামে এবং অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অভিযুক্ত অপরাধীদের গ্রেপ্তাতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবি জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। নিউজ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬