
ইকরামুল হক পিপুল, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন মামলার আসামি মো. হাফিজ বিন ফয়সাল আবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এখন হাসপাতালের কেনাকাটা, টেন্ডার ও সরবরাহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেনা মেডিকেল ও সার্জিক্যাল সামগ্রী যথাযথভাবে স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত ও বিতরণ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর তিনটি মামলা করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মো. বজলুর রহমান মামলাগুলো করেন।

তিন মামলায় আত্মসাতের অভিযোগের মোট অর্থ ২ কোটি ৯৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৬ টাকা।
এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৪০২ টাকার ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মু. ছিদ্দিকুর রহমান ও তৎকালীন স্টোরকিপার হাফিজ বিন ফয়সালকে আসামি করা হয়।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের ঘটনায় হাফিজ বিন ফয়সাল ও তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. রওশন আরা বেগমের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩ টাকার সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঘটনায় হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে ২ কোটি ১৫ লাখ ১২ হাজার ৮৫১ টাকার এমএসআর সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
দুদকের অভিযোগ ছিল, কার্যাদেশ ও বিলের বিপরীতে বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনা দেখানো হলেও এর একটি অংশ স্টক রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুদকের অনুসন্ধানের পরই মামলাগুলো করা হয়।
তিন মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এরও আগে ২০২০ সালে হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। সে সময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তাঁকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে মামলা হওয়ার সময় হাফিজ বিন ফয়সাল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি আবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে স্টোরকিপার হিসেবে কর্মরত। সাম্প্রতিক একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনেও তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোরকিপার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসার পর হাসপাতালের বিভিন্ন কেনাকাটা, টেন্ডার ও সরবরাহ কার্যক্রমে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব নতুন অভিযোগের স্বাধীন নথিগত সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. হাফিজ বিন ফয়সাল বলেন, তিনি কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, হাফিজ বিন ফয়সালের বিরুদ্ধে দুদকের একটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাফিজ বিভিন্ন সময়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।
প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের তিন মামলার একজন আসামি কীভাবে আবার একই জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে স্টোরকিপারের দায়িত্বে ফিরলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। নিউজ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬