
এলিন মাহবুব
রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভাষা কখনোই শুধু বন্ধুত্বের নয়। সেখানে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, ভূগোল এবং ক্ষমতার হিসাব একসঙ্গে কাজ করে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যতই ভালো হোক, স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে সেই সম্পর্ক দ্রুত বদলে যেতে পারে। আবার রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে।
তাই একটি প্রশ্ন এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে কূটনীতি যেখানে বারবার থমকে যায়, বাণিজ্য কি সেখানে এমন একটি সেতু তৈরি করতে পারে, যা রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মধ্যেও টিকে থাকে?
দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই অঞ্চলের দেশগুলো ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রেও তাদের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। অথচ অর্থনৈতিকভাবে তারা একে অপরের সঙ্গে যতটা যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার অনেক কম।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য মোট বাণিজ্যের মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। তুলনায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান অঞ্চলে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের অংশ প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্য প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও বিদ্যমান বাণিজ্যিক বাধাগুলো কমানো গেলে তা প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অর্থাৎ সমস্যা শুধু বাজারের অভাব নয়। সমস্যা হলো দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবহন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, বিনিয়োগের বিধিনিষেধ এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি। এসব কারণ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত করে রেখেছে।
রাজনীতি যখন আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আটকে দেয়এখানে সার্কের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রধান প্ল্যাটফর্ম সার্ক। কিন্তু সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যকারিতাকে সীমিত করেছে। ২০১৪ সালের কাঠমান্ডু শীর্ষ সম্মেলনের পর আর কোনো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে নির্ধারিত ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
ভারত-পাকিস্তানসহ সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পারস্পরিক মতপার্থক্য আঞ্চলিক সহযোগিতার এই অচলাবস্থাকে আরও দীর্ঘ করেছে।এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে যদি রাজনৈতিক মতপার্থক্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে থামিয়ে দিতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কি সেই অচলাবস্থার মূল্য এতটাই বাড়িয়ে দিতে পারে যে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা উভয় পক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে?
বাণিজ্য কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু এটি পারস্পরিক স্বার্থ তৈরি করতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, পরিবহন ও কর্মসংস্থান যদি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে রাজনৈতিক সংঘাতের সময় সম্পর্ক ছিন্ন করার অর্থনৈতিক মূল্যও বেড়ে যায়।
ধরা যাক, একটি দেশের হাজার হাজার কারখানা অন্য দেশের কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল। সেই কারখানায় তৈরি পণ্য আবার অন্য দেশের বাজারে বিক্রি হয়। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে পরিবহন, ব্যাংকিং, বন্দর, বীমা, সরবরাহব্যবস্থা এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান।তখন দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে ক্ষতি শুধু সরকারের হয় না। ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনও।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।বাণিজ্যের পরিমাণ বড় হলেই অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা গভীর হয় না।বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং ভারতে রপ্তানি করেছে প্রায় ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারে।
এই পরিসংখ্যান শুধু একটি বাণিজ্য ঘাটতির হিসাব নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে আনে দুই দেশের মধ্যে এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকার পরও কেন এমন গভীর উৎপাদনভিত্তিক আন্তঃনির্ভরতা তৈরি হলো না, যেখানে উভয় দেশের ব্যবসায়িক স্বার্থ সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার জন্য আরও শক্তিশালী প্রণোদনা তৈরি করতে পারে?কারণ আমাদের শুধু জানতে হবে না কত বাণিজ্য হচ্ছে।আমাদের জানতে হবে কী ধরনের বাণিজ্য হচ্ছে।
একটি দেশ যদি মূলত অন্য দেশের প্রস্তুত পণ্য আমদানি করে এবং তুলনামূলকভাবে কম পণ্য রপ্তানি করে, তাহলে বাণিজ্যের পরিমাণ বড় হলেও সম্পর্কের মধ্যে নির্ভরতা অসম হতে পারে।কিন্তু দুই দেশের উৎপাদনব্যবস্থা যদি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয় এক দেশের কাঁচামাল অন্য দেশের কারখানায় যায়, এক দেশের যন্ত্রাংশ অন্য দেশের উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এবং দুই দেশের প্রতিষ্ঠান একই সরবরাহশৃঙ্খলের অংশ হয়ে ওঠে তখন সম্পর্কের প্রকৃতি বদলে যায়।তখন প্রশ্ন আর থাকে না—
“আমি তোমার কাছে কী বিক্রি করব?”প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়
“আমরা একসঙ্গে কী তৈরি করতে পারি?”এই পরিবর্তনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।আসিয়ানের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিজেদের বাণিজ্য ছিল তাদের মোট আঞ্চলিক বাণিজ্যের ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। একই বছরে আসিয়ানের মোট পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের গুরুত্বও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বিশ্বব্যাংকের প্রায় ২৫ শতাংশের হিসাবটি একটি তুলনামূলক আঞ্চলিক চিত্র তুলে ধরে, আর ২১ দশমিক ৫ শতাংশ হলো আসিয়ানের ২০২৪ সালের সরকারি হিসাব। সময়কাল ও হিসাবের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় দুটি সংখ্যাকে সরাসরি মুখোমুখি তুলনা করা ঠিক হবে না।তবে আসিয়ানের অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা অন্য জায়গায়।সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নেই—এমন নয়। কিন্তু তারা এমন অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উৎপাদনব্যবস্থা নিজেদের আলাদা গুরুত্ব তৈরি করেছে।দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এখানেই বড় শিক্ষা।
আঞ্চলিক সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল রাখলে তার স্থায়িত্ব দুর্বল হতে পারে। কিন্তু ব্যবসা, বিনিয়োগ, সরবরাহশৃঙ্খল, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষের স্বার্থ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলে রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মধ্যেও সহযোগিতা ধরে রাখার একটি অতিরিক্ত ভিত্তি তৈরি হয়।
বাংলাদেশের জন্য এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মুখোমুখি।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। তবে ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি জানিয়েছে, সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ালে তা উপযুক্ত হবে। একই সঙ্গে এই সময়ে বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন হবে।২১ জুলাই ২০২৬-এ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বিষয়টি নথিভুক্ত করে এবং সাধারণ পরিষদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করে। ফলে উত্তরণের সময়সূচি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি তখনও চূড়ান্ত হয়নি।এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার খোঁজা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক উৎপাদনশৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়া শুধু অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নয় এগুলো কৌশলগত প্রয়োজনও।কারণ কোনো দেশের রপ্তানি যদি অল্প কয়েকটি পণ্য ও অল্প কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বাণিজ্যনীতি বা ভূরাজনৈতিক সংকটের অভিঘাতও বেশি হতে পারে।
তাই বাংলাদেশের কৌশল হওয়া উচিত কোনো একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো নয়; বরং বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ এবং পারস্পরিক নির্ভরতার ভারসাম্য তৈরি করা।ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার থাকবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করা, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যকে শান্তির জাদুর কাঠি ভাবার কারণ নেই।অতিরিক্ত ও অসম অর্থনৈতিক নির্ভরতা কখনো কখনো উল্টো রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কোনো একটি দেশ যদি অন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজার, কাঁচামাল, জ্বালানি, পরিবহনপথ বা সরবরাহশৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব অর্জন করে, তাহলে সেই নির্ভরতাই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু “বেশি বাণিজ্য” নয়।
প্রয়োজন এমন বাণিজ্যিক সম্পর্ক, যেখানে উভয় পক্ষের বাস্তব অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকবে; যেখানে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সরবরাহশৃঙ্খল দুই দিকেই বিস্তৃত হবে; এবং যেখানে কোনো একটি দেশ সহজে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে একতরফা চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।অর্থাৎ লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্ভরতা নয় পারস্পরিক নির্ভরতা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ক অর্থায়নবিষয়ক ২০২৪-২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে আমদানির ৯১ দশমিক ৪ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। একটি নির্দিষ্ট অংশীদারের ওপর আমদানির এমন উচ্চ নির্ভরতা সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।তাই বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক বাণিজ্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো নয়; বরং বাণিজ্যের কাঠামোকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা।
কূটনীতি রাষ্ট্রকে কথা বলার সুযোগ দেয়; বাণিজ্য সেই কথার পেছনে পারস্পরিক স্বার্থ তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলে কূটনীতিকরা আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু যদি দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ, সরবরাহব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকে, তাহলে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার জন্য রাষ্ট্রের বাইরেও একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরি হয়।তখন শান্তি শুধু সরকারের প্রয়োজন থাকে না।শান্তি প্রয়োজন হয় ব্যবসায়ীর, শ্রমিকের, বিনিয়োগকারীর এবং সাধারণ মানুষেরও।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণেও দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা আঞ্চলিক বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; আবার আঞ্চলিক বাণিজ্য একই সঙ্গে স্থিতিশীলতা ও শান্তিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে।তাহলে উত্তর কী?কূটনীতি যেখানে থামে, বাণিজ্য কি সেখানে পথ দেখাতে পারে?উত্তর পুরোপুরি “হ্যাঁ” কিংবা “না” কোনোটিই নয়।
বাণিজ্য কূটনীতির বিকল্প হতে পারে না। একটি বাণিজ্যচুক্তি সীমান্ত বিরোধ মেটাতে পারে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক একাই রাজনৈতিক অবিশ্বাস দূর করতে পারে না। আর বাণিজ্য যত বড়ই হোক, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নকে তা প্রতিস্থাপন করতে পারে না।কিন্তু বাণিজ্য কূটনীতিকে এমন একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে, যা রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মধ্যেও সহযোগিতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ায়।তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কৌশলের সামনে হয়তো একটি নতুন প্রশ্ন রাখা দরকার।প্রশ্নটি শুধু “আমরা কার বন্ধু?”নয়।বরং “কার সঙ্গে আমরা এমন পারস্পরিক স্বার্থ তৈরি করতে পারি, যার কারণে ভবিষ্যতে সম্পর্ক ছিন্ন করা উভয় পক্ষের জন্যই ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে?”কারণ রাজনৈতিক বন্ধুত্ব বদলাতে পারে। সরকার বদলাতে পারে। কূটনৈতিক সমীকরণ বদলাতে পারে।কিন্তু যখন মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া আর এত সহজ থাকে না।হয়তো ভবিষ্যতের আঞ্চলিক শান্তির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি কোনো নতুন রাজনৈতিক স্লোগান নয়।হয়তো সেটি তৈরি হবে বাণিজ্যের পথ ধরে।
লেখক : কলামিস্ট ও উদ্যোক্তা
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬