
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের মিঠাপুকুরে পাচারের সময় আটক ও উদ্ধার হওয়া ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার সকালে উপজেলার দিনাজপুর-মিঠাপুকুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তালিমগঞ্জ এলাকায় এসব সার আটক করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উদ্ধার করা সার উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে গিয়ে কৃষকদের কাছে সরকারি দরে বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার তালিমগঞ্জ এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার অন্যত্র নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এমন বিষয় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় তারা সারগুলো আটক করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া সারগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হয়। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এবং সারগুলো যাতে অবৈধভাবে মজুত কিংবা অন্যত্র পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে তা কৃষকদের মধ্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি মৌসুমে সময়মতো ইউরিয়া সার পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে কোনো কারণে সারের সংকট তৈরি হলে কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হয়। তাই উদ্ধার করা সার দ্রুত কৃষকদের মধ্যে সরকারি দামে বিক্রি করায় তারা উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লোকমান হেকিম বলেন, “কে বা কারা সারগুলো মজুত করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সারগুলো আটক করে প্রশাসনকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করা হয়েছে।” তিনি জানান, যারা সার আটক ও উদ্ধারে সহযোগিতা করেছেন, তাদের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সার বিক্রি করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সারগুলো দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত নিয়মে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি এসব সার মজুত করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা থাকে। এতে সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন প্রান্তিক কৃষকরা। এ কারণে সারের মজুত, পরিবহন ও বিক্রয় কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, তালিমগঞ্জ এলাকায় ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারা এসব সার মজুত করেছিলেন এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি বরাদ্দের সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে অন্যত্র চলে যেতে না পারে, সে বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। ডিলারদের মজুত, বিক্রয় কার্যক্রম এবং সারের পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, অবৈধ মজুত কিংবা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, “আমার উপজেলায় সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যাতে কোনোভাবেই পাচার বা অবৈধভাবে মজুত করা না হয়, সে বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সেটি নিশ্চিত করতে বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি সার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সময়মতো এবং ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া কৃষকদের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার যদি অবৈধভাবে মজুত বা পাচার করা হয়, তাহলে একদিকে যেমন কৃষকরা সংকটে পড়েন, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিরও সুযোগ তৈরি হয়। তাই তালিমগঞ্জের মতো ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা। ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধারের পর তা সরকারি দামে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সারের অবৈধ মজুত ও পাচার নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬