ক্রাইম রিপোর্টার, মোঃ রুবেল আহমদ :
১১জানুয়ারি (২০২৬)
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ‘খরচার হাওর’ এখন এক শক্তিশালী ও অসাধু সেচ সিন্ডিকেটের কবলে।
বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে কৃত্রিম পানি সংকট তৈরি করে কয়েক হাজার কৃষকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে স্থানীয় ১৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি চক্র। সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক মধ্যপাড়া এলাকার এই সিন্ডিকেটের কারণে হাওরের বিস্তীর্ণ জনপদে এখন বোবা আর্তনাদ চলছে। পানির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেলেও সিন্ডিকেটের দাবি করা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করলে মিলছে না এক ফোঁটা পানি।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ১৪ জনের নাম
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাদেরটেক মধ্যপাড়া গ্রামের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হাওরের সেচ পাম্প ও পানির পল্টনগুলো জবরদখল করে রেখেছে। এই সিন্ডিকেটের অভিযুক্ত সদস্যরা হলেন সলুকাবাদ ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল হাই মেম্বার (৬৫) (পিতা মৃত রশিদ মেম্বার), মোঃ লুত মিয়া (৬০), সাবেক চেয়ারম্যান মৃত রওশন আলীর ছেলে মোঃ আলামিন (৪২), মোঃ হাবিব মিয়া (৩৫) (পিতা মৃত তাজু মিয়া), তাবি মিয়া (৬৮) (পিতা মৃত সুরুজ হাজী), মোঃ শহীদ মিয়া (৪৬) (পিতা মোঃ আব্দুল আলী), আবুল কাসেম (৫৭) (পিতা মৃত কুদরত আলী), বারেক মিয়া (৬৭), আজি (৫৭) (পিতা মৃত মইজ উদ্দীন), জালাল ভান্ডারী (৫৬) (পিতা মৃত আবুল বশর), নানু মিয়া ওরফে হাত ভাঙ্গা নানু (৬৪), ভুঁইয়া সামছু (৫২), ফজু মিয়া মেম্বার (৫০) এবং আব্দুল হাই মোড়ল (৫২)।
জিম্মি দশায় প্রান্তিক কৃষক
কৃষকদের অভিযোগ, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে দিনের দীর্ঘ সময় পাম্প বন্ধ রেখে পানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। পরবর্তীতে চড়া দামে সেচ নিতে কৃষকদের বাধ্য করা হয়। যারা এই জুলুমের প্রতিবাদ করছেন, তাদের জমিতে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে রোপণকৃত বোরো চারা রোদে শুকিয়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে সিন্ডিকেটের দাবি করা প্রতি বিঘা জমি ৯০০/ টাকা করে পরিশোধ করছেন।
প্রতিবাদী কণ্ঠে হাহাকার
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এলাকার প্রবীণ কৃষক ও এলাকার স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভের সাথে বলেন"আমরা আগে আওয়ামীলীগের দুসরের কবলে ছিলাম কিন্তূ এখনো সেই আওয়ামীলীগের দুসরদের কবলেই আছি। আওয়ামীলীগের দুসর মোঃ হাবিব(৩৫) ও আব্দুল হাই মেম্বার (৬৫) স্থানীয়( বিএনপি )নেতা কর্মীদের সাথে হাত মিলিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
আজ আমাদের চোখের সামনে এই ১৪ জনের সিন্ডিকেট খরচার হাওরের কৃষকদের রক্ত চুষছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ কৃষকরা ভয়ে কথা বলতে সাহস পায় না। পানির অভাবে জমি ফেটে যাচ্ছে, অথচ তারা পকেট ভারি করতে ব্যস্ত। আমরা কি এই জুলুম থেকে মুক্তি পাব না?"
হুমকির মুখে খাদ্য নিরাপত্তা
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খরচার হাওরের ধান সুনামগঞ্জ তথা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখে। এই সেচ সিন্ডিকেট দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান উৎপাদন সম্ভব হবে না। ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বেন হাজার হাজার কৃষক।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা এই "সেচ সিন্ডিকেট" ভেঙে দিয়ে হাওরে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় ও বিশ্বম্বরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)মহোদয়কে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬