খুলনা থেকে রাজিবুল ইসলাম রাজিব
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার জনজীবন। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিন-রাতজুড়ে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লেখাপড়ায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং জননিরাপত্তাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার সরবরাহ সংকট এবং এলএনজি টার্মিনাল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে চাহিদা মেটাতে না পেরে বিতরণ সংস্থাকে ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, ২ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত খুলনা জোনে (খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর) বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫৭৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৫১৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। একই সময়ে ওজোপাডিকোর আওতাধীন ২১ জেলায় মোট চাহিদা ছিল ৭৪৪ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ করা গেছে ৬৩৯ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়।
ওজোপাডিকোর আওতায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পান। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এসব এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করা হচ্ছে।
খুলনা নগরীর খালিশপুর এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করাও সম্ভব হচ্ছে না।
দৌলতপুর এলাকার শিক্ষার্থী সাবরিনা তাবাসসুম লামিয়া বলেন, দিনে ও রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্ধকারের সুযোগে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কাও বাড়ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার এক বাসিন্দা জানান, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি ও সংরক্ষিত খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও জানান, দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ও বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে।
ওজোপাডিকো সূত্রে আরও জানা যায়, শুধুমাত্র খুলনা মহানগরীতে ২ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওজোপাডিকোর এক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং চাহিদা আরও বাড়লে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬