
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে পণ্য বিক্রি, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩১ জুলাই) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও জনবল পরিবহনে অভিযুক্ত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দুর্বল করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জে হিলোটিন জানান, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় সাংহাইভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একটি রুশ এয়ার কার্গো কোম্পানি এবং কয়েকজন জেনারেল সেলস এজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে। তাই তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নৌ অবরোধ এবং বিমান হামলার মাধ্যমে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে।
এছাড়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে।
মাহান এয়ার নিজেকে বেসামরিক বিমান সংস্থা হিসেবে দাবি করলেও, দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিবহনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। তবে বিমান সংস্থাটি বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’ নীতির অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকার কিংবা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি শুধু সামরিক কার্যক্রমেই নয়, ইরানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো, তেল-গ্যাস, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিংসহ নানা খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ছায়া তেল বাণিজ্য, ভুয়া কোম্পানি, চোরাচালান এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো তুলে আসছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬