
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তাদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং সরকারও এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। এখন জনগণ সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্যাকবলিত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেই আমরা চট্টগ্রামে এসেছি। মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারের করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাবি উত্থাপন করাই তাদের সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
চট্টগ্রাম মহানগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, নালা-নর্দমা উপচে পড়ে এবং মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। এসব সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। জনগণের দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”
সফরসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে তারা প্রথমে বাঁশখালী যাবেন। সেখান থেকে ফেরার পথে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং পরে নগরের কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় দাবি উত্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, দলের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে। বিশেষ করে নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।
দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই চার বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে রংপুর অঞ্চলে প্রতিবছরের মতো এবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
প্রধান সম্পাদক : আলী কদর পলাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক গোল্ড প্যালেস, ০৩ বেইলী রোড (১০ নাটক স্মরণী) ঢাকা-১২০৭ থেকে প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি টয়েনবি সার্কুলার রোড মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। যোগাযোগ করুন : মো. সাইফুল ইসলাম, ফোন: ০১৭৩৩৪৩৭৫৯৬ অথবা ০৯৬৯৬৪৩৭৫৯৬